১৩ নভেম্বর হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে আজ শনিবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার ২০২২। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য এ বছর পুরস্কার লাভ করেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক এবং নবীন শ্রেণিতে ‘ফানুস’ উপন্যাসের জন্য মৌরি মরিয়ম।

প্রয়াত সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, ‘চমৎকার একটি জীবন কাটিয়েছি আমি। লেখালেখির সঙ্গে ছিলাম, লেখকের সঙ্গে ছিলাম। মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে চেষ্টা করেছি। হুমায়ূন আহমেদও মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে চেষ্টা করেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের নাটক ১০ থেকে ৮০ বছর বয়সের মানুষেরা পছন্দ করত। জীবনের কঠিন বিষয়গুলোকে সাহিত্য ও টিভিনাটকে তিনি সহজ করে উপস্থাপন করেছেন, যা ১০ থেকে ৮০ বছর বয়সের মানুষগুলোকে এক করেছে। এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য হুমায়ূন আহমেদ, পুরস্কার কর্তৃপক্ষ ও এক্সিম ব্যাংককে ধন্যবাদ।’

তরুণ লেখক মৌরি মরিয়ম বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ শুধু আমার প্রিয় লেখকই নন, তিনি আমার অবসেশন। তাঁর নামের পুরস্কারটি পেয়ে আমি গর্বিত। আশা করি, আমার লেখার উত্তরোত্তর উন্নতি ঘটবে।’

এই সাহিত্য পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি শিক্ষাবিদ ও লেখক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, এক্সিম ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল বারী। পুরস্কারপ্রাপ্তদের উত্তরীয়, সনদ, স্মারক ও অর্থমূল্য যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১ লাখ টাকার চেক তুলে দেন অতিথিরা। মো. আব্দুর রাজ্জাক এই পুরস্কারের মূল্যমান ১০ ও ৫ লাখে উন্নীত করার পরামর্শ দেন।

হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী অভিনেত্রী ও কণ্ঠশিল্পী মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘এই দিনটির জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষা করি দুটি কারণে। আমার প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে সবাই ভালো ভালো কথা বলেন। আর এখানে এলে খুব কাছের কয়েকজন মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। এ রকম বেশ কয়েকজন প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন মানুষ আজ আর আমাদের মাঝে নেই। হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত থাকলে খুব ভালো লাগত।’

মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা নির্মাণে লেখকদের ভূমিকা অনেক। সমতা ও আইনের ভিত্তিতে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা বিনির্মাণের জন্য শিল্পী–সাহিত্যিকেরা বড় ভূমিকা রেখেছেন। দেশকে গভীরভাবে দেখলেই দেশপ্রেম তৈরি হয়। হুমায়ূন আহমেদ গভীরভাবে দেশকে দেখেছেন। তাঁর লেখা, নাটক–সিনেমায় তিনি হাওর অঞ্চলকে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ভেতরে দেশপ্রেম ছিল, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল। জাতি আজীবন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে। জাতির কাছে তাঁর স্থান থাকবে অনেক উঁচুতে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। শুরুতেই রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে শোনান শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। পুরস্কারপ্রাপ্তদের উদ্দেশে শংসাবচন পাঠ করেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ আজিজুল হক ও লেখক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কারের দুই বিচারক প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও কবি আবুল হাসনাতের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এবার অষ্টমবারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।