আওয়ামী লীগের লোকজন বলেছিল, ‘গুলি খেয়েছ, এলাকায় থাকতে পারবে না’: জবানবন্দিতে সাক্ষী
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর মেরাদিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন সাক্ষী মো. রুহুল আমীন। সে সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সে সময় ‘আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রমনিষিদ্ধ) লোকজন আমার বাসায় আসে এবং বলে, “তুমি গুলি খেয়েছ, এই এলাকায় থাকতে পারবে না।”’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ মঙ্গলবার এমন জবানবন্দি দেন রুহুল আমীন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে তিনি এ জবানবন্দি দেন।
মামলার আসামি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, বিজিবি কর্মকর্তা মো. রাফাত-বিন-আলম মুন, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এর মধ্যে রেদোয়ানুল ও রাফাত সাবজেলে আছেন এবং তাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রাশেদুল ও মশিউর পলাতক।
জবানবন্দিতে সাক্ষী রুহুল আমীন বলেন, তিনি কেয়ারটেকারের চাকরি করেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রামপুরা থানার পাশে মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র–আন্দোলন দেখতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন ছাত্রদের ওপর গুলি করছেন। আরও দেখতে পান যে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিছু লোক মারা গেছেন, কিছু লোক আহত হয়ে পড়ে আছেন। সবাই রক্তাক্ত ছিলেন। ভয়ে পেছনে বাসার দিকে রওনা দেন রুহুল আমীন। তখন একটি গুলি তাঁর কোমরের নিচে লেগে সামনে দিয়ে বের হয়ে যায় (সাক্ষী গুলিবিদ্ধ স্থানটি দেখান)।
গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে গেলে কয়েকজন রুহুল আমীনকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাতে তাঁকে মুগদা হাসপাতাল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। কারণ, ওই দিন আওয়ামী লীগের লোকজন হাসপাতালের চিকিৎসকদের হুমকি দিয়েছিলেন, ‘এদের গুলি করা হয়েছে, মরেনি; এদের ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।’ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তাঁকে দেওয়া হয়নি।
পরে বাসায় ফিরে যান উল্লেখ করে জবানবন্দিতে রুহুল আমীন বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁর বাসায় আসেন এবং বলেন, ‘তুমি গুলি খেয়েছ, এই এলাকায় থাকতে পারবে না।’ তবে ওই এলাকার নির্দলীয় একজন তাঁকে ভরসা দেন। পরে রুহুল আমীন নিজ খরচে ফরাজী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে রুহুল আমীন জানতে পারেন যে বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশের রাশেদ ও ওসি মশিউর গুলি করেছেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন রুহুল আমীন। তিনি আসামিদের বিচার দাবি করেন।