বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের এমন সব দৃঢ়তার কথা তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে আরেকটি উদ্যোগ। আজ শনিবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর অডিটরিয়ামে ছিল আলোকচিত্রে তাজউদ্দীন আহমদ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বইটি প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর তাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাক্টিভিজম (সিতারা)।

এতে রয়েছে তাজউদ্দীন আহমদের তরুণ বয়স থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের পর্যায় এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন ছবি ও বিবরণ। বইটি সম্পাদনা করেছেন শারমিন আহমদ, সিমিন হোসেন রিমি ও এফ এম তানভীর শাহরিয়ার।

জাতীয় সংগীত ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আমীর-উল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, তাজউদ্দীনের বড় মেয়ে লেখক ও গবেষক শারমিন আহমদ, ছোট মেয়ে সমাজকর্মী মাহজাবিন আহমদ, ছেলে তানজিম আহমদ সোহেল তাজ।

তাজউদ্দীনের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ের ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা তুলে ধরে আমীর-উল ইসলাম বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ ছোটবেলা থেকেই সাধক প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না। একদিকে যখন আমরা অসহযোগ আন্দোলন শুরু করি, ঠিক একই সময়ে সাধারণ মানুষের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকেও তাজউদ্দীন আহমদের নজর ছিল। তাঁর এই অসহযোগ আন্দোলন অনেকটা মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের মতো অনন্য। এ নিয়ে গবেষণাও হতে পারে।’

default-image

রাষ্ট্রীয়ভাবে কেন আমরা আমাদের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদ্‌যাপন করব না– এ প্রশ্ন রেখে মিজানুর রহমান বলেন, যুদ্ধকালীন যত বক্তৃতা, সবকটিতে তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করেছেন, তাঁর নাম উচ্চারণ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশে যুদ্ধ হচ্ছে, সেটি মানুষকে বলতে ভোলেননি। কারণ, তিনি একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে নেতৃত্বে এসেছিলেন।

এই বই সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যে প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, তারা এখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করছে। এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক একটি ঘটনা। তারা নতুন দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধকে দেখছে। তাদের দৃষ্টি অত্যন্ত বস্তুনিষ্ঠ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

default-image

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তাজউদ্দীন আহমদের তিন সন্তান। শারমিন আহমদ বলেন, ‘১৯৭১ সালে একটি নতুন সম্ভাবনার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছিলাম। সেই সময়টাকে ভুলে গেলে আমরা এগোতে পারব না। এ বইটি সেই সময়কে ধারণ করেছে। একটি উন্নত সমাজের বড় চিত্র কিন্তু কোনো স্থাপনা নয়, কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়। একটি উন্নত দেশের প্রতিকৃতি হলো মানবিক উন্নয়ন, চিন্তা ও মেধার উন্নয়ন।’

মাহজাবিন আহমদ বলেন, ‘এখনকার তরুণেরা অ্যাক্টিভিজম হিসেবে ১৯৭১ সালের ইতিহাসকে তুলে ধরার কাজ শুরু করেছে, সেটা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। সময়ের টানেলের উল্টো পাশে অন্ধকার নয়, আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে।’ সোহেল তাজ বলেন, মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীন সমাজের জন্য মুক্তিযুদ্ধে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। সবাই যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে, দেশটা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি পেত। সোহেল তাজ বলেন, ভবিষ্যৎ গড়তে হলে অতীতকে শ্রদ্ধা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদের মেজ মেয়ে সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, আইনজীবী তানিয়া আমীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ এস কামাল, ১৯৭১ সালের নৌ কমান্ডার ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ।

মোড়ক উন্মোচনের পর ছিল দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বড় পর্দায় দেখানো হয় তাজউদ্দীন আহমদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে সকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রায় দেড় শ স্কুলশিক্ষার্থী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন