কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিসম্পর্কিত প্রক্রিয়ার বৈধতাসংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল শুনানি ৯ ফেব্রুয়ারি

সুপ্রিম কোর্টফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিসম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ৯ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন ওই লিভ টু আপিল করেন। পরে লিভ টু আপিলকারীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আগামী সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চুক্তি হয়ে যেতে পারে বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তখন আদালত বলেছেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে এসেছে, এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হবে না। তাই এ বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী।

এর আগে রিটের বিষয়ে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের বিভক্ত রায়ের পর হাইকোর্টের একক বেঞ্চ গত ২৯ জানুয়ারি রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে রিট খারিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। একক বেঞ্চের রায় ঘোষণার পর গত ২৯ জানুয়ারি আপিল বিভাগে আবেদন করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এতে চুক্তি সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে সেদিন চেম্বার আদালত ‘নো অর্ডার’ দেন। পাশাপাশি নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রিট আবেদনকারীপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। লিভ টু আপিলটি চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ১৫ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

আদালতে লিভ টু আপিলকারীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও সৈয়দ মামুন মাহবুব শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানি করেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. হেলাল উদ্দিন চৌধুরী।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক সই হয়। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তিসম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন।

রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিভক্ত রায় হয়। দ্বৈত বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করেন। দ্বৈত বেঞ্চের অপর বিচারপতি রুল ডিসচার্জ (রিট খারিজ) করে রায় দেন। এরপর প্রধান বিচারপতি গত ১৫ ডিসেম্বর রিটটি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান। রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে ২৯ জানুয়ারি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন।