নভেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭, আহত অন্তত ৬২৯
দেশে গত নভেম্বর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৬২৯ জন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) করা ‘মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে’ এ তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, নিজস্ব তথ্যানুসন্ধানী দল ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে আজ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির ডাকা সমাবেশ কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ‘ভয়াবহভাবে’ বেড়েছে। বেশির ভাগ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও পুলিশের। এই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের অন্তঃকোন্দলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর অন্তত ১৯টি গুপ্ত হামলার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ১৬ জন আহত হয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক।
সংস্থাটির হিসাবে, রাজনৈতিক কারণে এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অন্তত ২ হাজার ১১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের ২ হাজার ৯০ জন বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মী। এ ছাড়া ১১২ মামলায় নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১৩ হাজার ২২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এইচআরএসএস বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাই বিরোধীদের আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দিচ্ছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াও সংগঠনটি শ্রমিক ও সাংবাদিক নির্যাতন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছে।
এইচআরএসএস জানিয়েছে, গত মাসে শ্রমিক নির্যাতনের ২৩টি ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে দুজনসহ চারজন শ্রমিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৬০ জন। পোশাকশ্রমিকদের বেতনবৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুই শতাধিক গ্রেপ্তার ও ৩৪ হাজারের বেশি শ্রমিকের নামে মামলা হয়েছে।
সংস্থাটির করা ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত নভেম্বরে ৯টি হামলার ঘটনায় ১০ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ছয় সাংবাদিক।
সহিংস এ পরিস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় বলে উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস। তারা বলছে, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মতো আচরণ করছে। সরকারি দমনপীড়ন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটাধিকারের প্রশ্নেও দেশে নৈরাজ্য ও সংঘাত দেখা দিয়েছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।