অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা যেকোনো বাহিনীর জন্যই সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের কাজগুলোর একটি, সেটি পুলিশ কিংবা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) যে–ই হোক না কেন।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমালোচনা করে একটি বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে মান তা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের নয়। এ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ও ত্যাগকে ছোট করা মানে হলো, রোহিঙ্গাদের নিয়ে তারা যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, তা ছোট করে দেখা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ২০২১ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ ১২০ কোটি ডলার খরচ করেছে। সেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর অর্ধেক অর্থ সংগ্রহে সংগ্রাম করতে হয়েছে।

সংলাপে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে একজন রোহিঙ্গাকেও দেশটিতে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে এখন অন্য উপায় খুঁজতে হবে।

রোহিঙ্গ সংকটের কারণে ইন্দো–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ জটিল পরিস্থিতিতে আছে বলে মনে করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, বার্মা আইন পাসের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যে মনোভাব দেখা গেছে, তা বাংলাদেশের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

আজকের সংলাপটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক শাহাব এনাম খান। সেখানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রসচিব রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খুরশেদ আলম, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সাবেক পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার, কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলস, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুয়েন লুইস প্রমুখ।