বাংলা একাডেমি পুরস্কার ঘিরে দীর্ঘ বিতর্ক

বাংলা একাডেমি

কবি মোহন রায়হানকে ২০২৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (কবিতা) দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় দেশের সাহিত্য, শিল্প অঙ্গনসহ বিদগ্ধ মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি স্বশাসিত সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমির ভূমিকা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে এবারই প্রথম বিতর্ক সৃষ্টি হয়নি। গত বছরও ২০২৪ সালের পুরস্কার ঘোষণাকে ঘিরে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় মুক্তিযুদ্ধ বিভাগে মোহাম্মদ হাননান এবং শিশুসাহিত্যে ফারুক নওয়াজের নাম ঘোষণা করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এ পুরস্কার নিয়ে নানামুখী বিতর্কের প্রতিবাদে কথাসাহিত্য বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্ত সেলিম মোরশেদ নিজের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

মোহন রায়হান
ছবি: মোহন রায়হানের ফেসবুক থেকে নেওয়া

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারকে ঘিরে এমন কর্মকাণ্ডে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এর আগেও নির্বাহী পরিষদের একজন এবং পুরস্কার কমিটির একজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। তবু পুরস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে একাডেমির বিতর্ক থামেনি। কবি মোহন রায়হানের ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সেই বাস্তবতাই আবারও সামনে এনেছে।

ঘোষণা করা সত্ত্বেও কবি মোহন রায়হানকে কেন পুরস্কার দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ আছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখে আবার পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। আগের সরকারের সময় বাংলা একাডেমি তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছিল। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।’ কোন ধরনের অভিযোগ মোহন রায়হানের বিরুদ্ধে ছিল, এ প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা নিয়ে এখন কথা বলা যাবে না। বিষয়টি যেহেতু খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে বলা যাবে না।’

এই পুরস্কার নেওয়ার আর প্রশ্নই আসে না। আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। আমি পুরস্কার চাইনি।
মোহন রায়হান

পুরস্কার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এ প্রশ্নে গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

সংবাদ সম্মেলন করতে চান মোহন রায়হান সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা বাংলা একাডেমি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে কবি মোহন রায়হান ভাবছেন না।

গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই পুরস্কার নেওয়ার আর প্রশ্নই আসে না। আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। আমি পুরস্কার চাইনি। একাডেমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমাকে মনোনীত করে দাপ্তরিক চিঠি দিয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত হয়েছি। অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আগের দিনও আমাকে একাডেমিতে আমন্ত্রণ জানিয়ে মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মহড়াও করানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে গেলে প্রথমে মহাপরিচালক জানান, “একটি দুঃসংবাদ আছে। বিশেষ কারণে আপনাকে এখন পুরস্কার দেওয়া যাচ্ছে না। আপনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলে ভালো হবে”।’

মোহন রায়হান বলেন, ‘তখন আমি বলেছি, পুরস্কার না দিলে দেবেন না। কিন্তু বাংলা একাডেমির জীবন সদস্য হিসেবে আমি অনুষ্ঠানে থাকতে পারি। সেটা আমার অধিকার। পরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও বলেন, আমার উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রীর জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু আমি তাঁদের জানাই, আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমি অনুষ্ঠানে থাকতে চাই এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকি। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রথমেই কবিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে আমার নাম ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় নাম থেকে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।’

মোহন রায়হান বলেন, ‘পুরস্কার প্রদান পর্ব শেষ হলে আমি অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে আসি। আমি বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে জাতির কাছে তুলে ধরার জন্য সংবাদ সম্মেলন করার পরিকল্পনা করেছি। হয়তো রোববার সংবাদ সম্মেলন করে জানাব নেপথ্যে কী ঘটনা ঘটেছিল।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা একাডেমির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত প্রায় দুই দশক থেকে যেভাবে একাডেমির ওপর মন্ত্রণালয় তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে, তাতে এখানে স্বায়ত্তশাসন বলে কিছু নেই।

বিতর্কের সূচনা অনেক আগে থেকে

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তিত হয় ১৯৬০ সালে। তবে স্বাধীনতার পরপরই এ পুরস্কারকে ঘিরে বিতর্কের সূচনা ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা একাডেমির এক কর্মকর্তা জানান, স্বাধীনতার পর কবি জসীমউদ্‌দীনকে পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি জানতে পেরে কবি তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছে জানান, তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তিনি তা গ্রহণ করতে পারবেন না। বহু কনিষ্ঠ কবি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর আপত্তির কারণ। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে কবি জসীমউদ্‌দীন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পাননি।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের প্রথম ঘটনা ঘটে ১৯৭২ সালে। বামপন্থী গবেষক ও জনবুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর প্রবন্ধ সাহিত্যে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও নীতিগত কারণে তা গ্রহণ করতে অসম্মত হন। লেখক হিসেবে তিনি আমৃত্যু কোনো পুরস্কার গ্রহণ করেননি। ২০২৫ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

এরপর বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে ১৯৮২ সালে। সেবার নাট্যকার মামুনুর রশীদ নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও স্বৈরাচারী এইচ এম এরশাদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

মামুনুর রশীদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি সামরিক শাসকের হাত থেকে পুরস্কার নিতে চাননি।

বাংলা একাডেমির নিজস্ব ধরনের স্বশাসন আছে। সে অনুসারে তারা পুরস্কারের জন্য তাদের নিয়মে নাম প্রস্তাব করে। সরকারের উচিত একাডেমির এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। এ বিষয়ে একাডেমির ওপর সরকারের চাপ দেওয়া উচিত নয়।
সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কবি মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েও পুরস্কার না দেওয়ার বিষয় নিয়ে এই প্রবীণ নাট্যকার বলেন, ‘এমন ঘটনা খুবই অপ্রত্যাশিত। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা ঠিক কাজ নয়। এ ঘটনায় বাংলা একাডেমি ও বিচারকমণ্ডলীর সুনাম নষ্ট হয়েছে।’

মামুনুর রশীদ বলেন, শুধু বাংলা একাডেমি নয়, শিল্পকলা একাডেমিতেও পুরস্কার নিয়ে দলের অনুসারীদের প্রভাব, প্রাধান্য ও বিবেচনা মুখ্য হিসেবে কাজ করে। এই পুরস্কারগুলো সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ হওয়া উচিত।

এরপরের ঘটনা ২০১৭ সালে। সেবার অনুবাদ সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ জামানকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি ২০১৬ সালের জন্য এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। নিয়াজ জামান ১৯৭৫ সালে ডেইলি অবজারভার পত্রিকায় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। এ জন্য তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিব্রত হতে পারেন বলে মন্ত্রণালয় থেকে একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানকে জানানো হয়েছিল। এ কারণে পুরস্কারপ্রাপ্ত নিয়াজ জামানকে আগেই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের পরে তাঁর বাসভবনে গিয়ে একাডেমি কর্তৃপক্ষ পুরস্কারটি প্রদান করে।

বাংলা একাডেমির পুরস্কার নিয়ে পরের বিতর্ক ঘটেছিল ২০২৪ সালে। গল্পকার জাকির তালুকদার সে বছর ২০১৪ সালে পাওয়া তাঁর পুরস্কারটি বাংলা একাডেমিতে ফেরত দেন। তিনি ১০ বছর আগে কথাসাহিত্যে পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, বাংলা একাডেমি পুরস্কার নিয়ে যেসব বিতর্ক ও দলীয় বিবেচনা কাজ করছে, তাতে এই পুরস্কার তাঁর কাছে মর্যাদাকর নয়। সে কারণে তিনি পুরস্কারটি ফেরত দিচ্ছেন।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরস্কার নিয়ে (নিয়মানুসারে আগের বছর ঘোষিত পুরস্কার পরের বছরে প্রদান করা হয়) পরপর দুই বছর সবচেয়ে বড় বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিল দেশের মেধা ও মননের প্রতীক হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি।

নিয়াজ জামান ১৯৭৫ সালে ডেইলি অবজারভার পত্রিকায় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। এ জন্য তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিব্রত হতে পারেন বলে মন্ত্রণালয় থেকে একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানকে জানানো হয়েছিল। এ কারণে পুরস্কারপ্রাপ্ত নিয়াজ জামানকে আগেই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।

যে প্রক্রিয়ায় পুরস্কার দেওয়া হয়

একাডেমির পুরস্কারের নীতিমালা অনুসারে, একাডেমির নির্বাহী পরিষদ ৩০ জন ফেলোকে নিয়ে একটি প্রস্তাবক কমিটি গঠন করে। তাঁরা পুরস্কারের জন্য প্রতিবছর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নাম প্রস্তাব করে মহাপরিচালকের কাছে পাঠান। মহাপরিচালক সাত সদস্যের পুরস্কার কমিটি গঠন করেন। এ কমিটি ফেলোদের প্রস্তাব থেকে নাম চূড়ান্ত করে। মহাপরিচালক এই কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। চূড়ান্ত নাম একাডেমির নির্বাহী কমিটির কাছে পাঠানো হয়। নির্বাহী কমিটি পুরস্কার কমিটির কোনো নাম ‘যৌক্তিক কারণে’ বিবেচনা না করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। তবে তারা নতুন কোনো নাম যুক্ত করতে পারে না।

জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলা একডেমির নীতিমালাতেই স্পষ্ট বলা আছে, শুধু নির্বাহী কমিটিরই পুরস্কার কমিটির কোনো নামের বিষয়ে আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে। তবে তারা নতুন নাম যুক্ত করতে পারবে না। আর আপত্তি না থাকলে নাম চূড়ান্ত হবে। সেই নাম মন্ত্রণালয় বা অন্য কারও পরিবর্তন করার নীতিগত সুযোগ নেই। এটা করা হলে তা হবে বেআইনি। তবে গত বছর এবং এ বছর পরপর দুবারই দেখা গেল চূড়ান্ত মনোনয়নের পরেও কোনো কোনো পুরস্কারপ্রাপ্তের নাম পরিবর্তন বা স্থগিত করা হয়েছে। এটা নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা একাডেমির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইন অনুসারে বাংলা একাডেমি একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, যা অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মতো স্বশাসনের ভিত্তিতে চলে। একটি নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকেন। কিন্তু গত প্রায় দুই দশক থেকে যেভাবে একাডেমির ওপর মন্ত্রণালয় তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে, তাতে এখানে স্বায়ত্তশাসন বলে কিছু নেই। এসব সিদ্ধান্তের ফলে একাডেমি জনসাধারণের কাছে সমালোচিত ও অনেক সময় নিন্দিত হয়েছে, যা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের জন্য অমর্যাদাকর।

অন্য পুরস্কার নিয়েও বিতর্ক

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ছাড়াও আরও কিছু পুরস্কার প্রদান করে। একাডেমি পরিচালিত এসব পুরস্কার নিয়েও অতীতে বিতর্ক ও প্রত্যাখ্যানের দৃষ্টান্ত রয়েছে। বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তক আহমদ ছফাকে ১৯৯৩ সালে বাংলা একাডেমি পরিচালিত ‘সাদত আলী আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছিল। পুরস্কারটি তিনি ফিরিয়ে দেন।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে ‘সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সাহিত্য পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী কবি ওমর শামসকে। ‘প্রবাসী সাহিত্যিক’ হিসেবে পুরস্কার দেওয়ার জন্য তিনি নেননি।

বাংলা একাডেমির পুরস্কার-বিতর্ক সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও নাট্য সংগঠক সামিনা লুৎফা প্রথম আলোকে বলেন, বাংলা একাডেমির নিজস্ব ধরনের স্বশাসন আছে। সে অনুসারে তারা পুরস্কারের জন্য তাদের নিয়মে নাম প্রস্তাব করে। সরকারের উচিত একাডেমির এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা। এ বিষয়ে একাডেমির ওপর সরকারের চাপ দেওয়া উচিত নয়।

সামিনা লুৎফা বলেন, একজন কবি কী লিখবেন না লিখবেন, সেটা তাঁর বিষয়। এটা নির্ধারণ করা সরকারের কাজ নয়। শিল্পী-সাহিত্যিকেরা প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে কাজ করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তাঁদের কাজের স্বাধীনতা দরকার বলে তিনি মনে করেন। এসব বিষয়ে বাংলা একাডেমির ওপর সরকার কোনো চাপ দেবে না এবং কবি মোহন রায়হানের পুরস্কার তাঁকে সসম্মানে ক্ষমা চেয়ে ফেরত দেওয়া হবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।