দুদক সূত্র জানায়, দুই কর্মকর্তাকে পৌনে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া ঢাকা ওয়াসায় নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ, বিভিন্ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা লোপাট ও ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ সম্পর্কে দুই কর্মকর্তাকে নানা প্রশ্ন করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কাশেম ও এ কে এম সহিদ উদ্দিন এবং সহকারী সচিব শেখ এনায়েত আবদুল্লাহকে আজ তলব করা হয়। এর মধ্যে মো. আবুল কাশেম বিদেশে থাকায় দুদকে আসতে পারেননি। তিনজনের বিরুদ্ধেই অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর দুদক থেকে বের হওয়ার সময় এ কে এম সহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁর পিছু নিলে একপর্যায়ে তিনি বলেন, এখানে (ঢাকা ওয়াসা) দুর্নীতি কিছু নেই। নিয়ম মেনেই তাঁর নিয়োগ হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা পৌনে একটা পর্যন্ত দুই কর্মকর্তাকে পৃথক ও মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আরও চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তাঁরা হলেন ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান, সহকারী সচিব মৌসুমি খান ও ডেপুটি চিফ ফাইন্যান্স অফিসার রত্নদ্বীপ বর্মণ। এর মধ্যে মৌসুমি খান দেশে নেই বলে জানা গেছে।

ঢাকা ওয়াসার সাংগঠনিক কাঠামোতে বোর্ডের প্রধান প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। এরপরই রয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। এরপর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি)। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ওয়াসার এই জনবলকাঠামোতে পরিচালকের কোনো পদ নেই। কিন্তু ঢাকা ওয়াসায় তিনজন পরিচালক রয়েছেন। তাঁদের মাসিক বেতন প্রায় দেড় লাখ টাকা করে। এর সঙ্গে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও আছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের অনিয়ম, নিয়োগ–বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রকল্পে লুটপাটের অনুসন্ধানে সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবি নোটিশ পাঠায় দুদক। এই সঙ্গে ঢাকা ওয়াসার লেনদেনসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানেও নথিপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।