জাতীয় পার্টি ও গণতান্ত্রিক ফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জোটের প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। আবদুল্লাহ আল মাহমুদ রিটটি করেছেন। তিনি রিটে নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত রোববার রিটটি করা হয়েছে বলে জানান আবেদনকারীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তিনি আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জোটের প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। রিটের ওপর আগামীকাল বুধবার শুনানি হতে পারে।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ। সেদিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
এর আগে জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নির্বাচনী জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২২ আসনে ১৩২ জন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। ৯ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জোট হয়। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন অংশ দুটিসহ ১৮টি দল রয়েছে এই জোটে।
রিটের যুক্তি সম্পর্কে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোট মহাজোট হিসেবে পরিচিত। এই মহাজোট জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই জোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ ১৪টি দল ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে তারাও অপরাধ করেছে। যে কারণে সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা নির্বাচনের অযোগ্য হবে।
এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। এই প্রজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘ওই প্রজ্ঞাপন দিয়ে সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। অঙ্গসংগঠন মানে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠন। সহযোগী সংগঠন মানে ১৪ দল। ভ্রাতৃপ্রতিম মানে হচ্ছে জাতীয় পার্টি। সে জন্য ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় পার্টি সব সময় আওয়ামী লীগের নীতি–আদর্শকে সমর্থন দিয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতিম এই দলের প্রার্থী কীভাবে নির্বাচন কমিশন বৈধতা দেয়?’