• ঘরের আবদ্ধ জায়গায় নয়, আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় টেলিভিশনটি রাখতে হবে। টিভি সেট করার সময় সোজাসুজি রাখতে হবে। টিভি কখনো ওপর-নিচ করে রাখবেন না, এতে করে টিভির স্ক্রিনে দাগ পড়ে যায়।

• টেলিভিশন পরিষ্কার করার সময় আনপ্লাগ করে নিতে হবে। পরিষ্কারের জন্য কখনো সাবান বা ঘর্ষণজাতীয় শক্ত কিছু ব্যবহার করা যাবে না। টেলিভিশনের পর্দা পরিষ্কার করার জন্য সুতি ও নরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে। অনেক সময় বেশি পরিষ্কারের জন্য আমরা স্ক্রিনে পানি ব্যবহার করে ফেলি। এটা থেকে বিরত থাকতে হবে।

• বিদ্যুৎ স্পার্ক করলে টেলিভিশনের যেন ক্ষতি না হয়, এ জন্য টেলিভিশনের সঙ্গে পাওয়ার-লাইনরক্ষক যোগ করতে পারেন। এতে দীর্ঘদিন টিভি ব্যবহার করা যাবে। টিভির সঙ্গে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভোল্টেজ ওঠা–নামার কারণে টিভির ক্ষতি হবে না।

• সাধারণত শোরুমে অনেক বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার করা হয়। তাই দেখানোর সময় টিভির উজ্জ্বলতাও বাড়ানো থাকে। দেখেশুনে টিভি কেনার পর বাসায় এসে উজ্জ্বলতা কমিয়ে নেবেন। অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা সব ধরনের টেলিভিশনের দীর্ঘ মেয়াদকে নষ্ট করে দেয়। শুধু তা–ই নয়, অতিরিক্ত উজ্জ্বলতা চোখেরও ক্ষতি করে। ঘরের শিশুদের টিভি দেখার সময় বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

• অনেকেই আছেন, যাঁরা টিভি দেখছেন না, কিন্তু অন করে রাখেন সব সময়। বিনা কারণে টেলিভিশন চালিয়ে রাখবেন না। কেননা, টিভির ডিসপ্লে ব্যাকলাইট গড়ে সাধারণত ৬০ হাজার ঘণ্টা ভালোভাবে সার্ভিস দিয়ে থাকে। যদি দৈনিক ৩ ঘণ্টা টিভি অন করে রাখা হয়, তাহলে বছরে টিভি ১ হাজার ঘণ্টার ওপর ছেড়ে রাখা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি ছেড়ে রাখলে এর কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

• টিভি দেখা শেষ হলে আমরা রিমোট টিপে অফ করে রাখি। আনপ্লাগ করি না। অযথা প্লাগে সুইচ দেওয়া থাকলে বিদ্যুতের অপচয় হয়। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক গোলযোগের সময় যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই টিভি দেখা শেষ হলে প্লাগ খুলে রাখতে হবে।

• অনেকেই টিভির কন্ট্রাস্ট লেভেল অতিমাত্রায় বাড়িয়ে রাখি। এতে করে টিভির মেয়াদ ও ছবির গুণগতমান কমে যায়। তাই মাঝেমধ্যে কন্ট্রাস্ট লেভেল বাড়িয়ে-কমিয়ে নিতে হবে। কন্ট্রাস্ট লেভেল যত বেশি হবে, টিভিতে তত বেশি পাওয়ার খরচ হবে। এর ফলে টিভির স্থায়িত্ব কমে যায়। মানসম্মত সেটিংয়ে টিভি সবচেয়ে কম শক্তি শোষণ করে এবং টেকেও বেশি দিন।