কারাগারে শাকিল-রুপা, সম্পদের হিসাব চায় দুদক

শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাফাইল ছবি

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কারাগারে থাকা সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার কাছে সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বাড়ির ঠিকানায় নোটিশ পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেল সুপারের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। আজ রোববার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, আগের কমিশন শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপার সম্পদ বিবরণী নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। পরে দুদক জানতে পারে, তাঁরা পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ কারণে এখন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁদের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, শাকিল আহমেদের জন্য সম্পদ বিবরণীর ফরম নম্বর ০০৭২১৩ এবং ফারজানা রুপার জন্য ০০৭২১৪। আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের নিজেদের নামে থাকা সম্পদের পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীর এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের দায়দেনা, আয়ের উৎস এবং কীভাবে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, শাকিল আহমেদ বর্তমানে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। তাঁর কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পৌঁছে দিতে ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের মাধ্যমে নোটিশ জারি করা হবে। অন্যদিকে ফারজানা রুপা মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকায় তাঁর কাছে সংশ্লিষ্ট জেল সুপারের মাধ্যমে আদেশ পৌঁছে দেওয়া হবে।

এর আগে দুদকের কনস্টেবল মো. জুয়েল মিয়া তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় আদেশপত্র ও সম্পদ বিবরণীর মূল ফরম ফেরত দেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে দুদক জানতে পারে, শাকিল ও রুপা পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁদের কাছে আদেশ পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শাকিল আহমেদের উদ্দেশে দেওয়া দুদকের আদেশে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে কমিশনের ‘স্থির বিশ্বাস’ হয়েছে যে তিনি জ্ঞাত আয়ের বাইরে নিজের নামে বা বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।

ফারজানা রুপার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি দুদকের অনুসন্ধান পর্যায়ের অভিযোগ। নথিতে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার কোনো তথ্য নেই।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে তাঁদের সম্পদ বিবরণী দিতে বলা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, শাকিল আহমেদকে নিজের, স্ত্রীর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের তথ্য দিতে হবে। অন্যদিকে ফারজানা রুপাকে নিজের, স্বামীর এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দিতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দিলে দুদক আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।