দুবাইয়ে বাংলাদেশি সবজির ব্যবসায় সফল চট্টগ্রামের মোজাম্মেল
চট্টগ্রামের মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতেই জীবিকার সন্ধানে দেশ ছেড়েছিলেন। ২০০৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে আগে থেকেই থাকতেন বড় ভাই আবুল হাসনাত।
ভাইয়ের মতো করে মোজাম্মেল দুবাইয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৩ সালে ভিসা সংকটে পড়েন তিনি। কী করবেন, ভেবে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে দুই ভাই মিলে বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে সবজি ও ফল আমদানি শুরু করেন। ব্যবসায় সফলও হন তাঁরা।
সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এবার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে মিলেছে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি। বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে অবদান রাখায় ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মোজাম্মেলকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ সিআইপি (এনআরবি) অ্যাওয়ার্ড-২০২০ প্রদান করেন।
মোজাম্মেল বলেন, ২০১৩ সালে তাঁরা দুই ভাই ভিসা সংকটে পড়েছিলেন। শ্রমিকের ভিসাটির মেয়াদ তখন শেষ পর্যায়ে। এ সময় চিন্তা করে দেখলেন, বাংলাদেশি সবজি ও মৌসুমি ফলের বাজার রয়েছে দুবাইয়ে। তখন দুই ভাই মিলে ব্যবসার জন্য একটি পার্টনারশিপ ভিসা করেন। তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় মো. মোজাম্মেল হোসেন ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল ট্রেডিং। শুরুতে তাঁরা এক টন সবজি দেশ থেকে দুবাইয়ে আমদানি করেন। এরপর ধীরে ধীরে ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে।
দুবাইয়ের সবচেয়ে বড় সবজিবাজারে মোজাম্মেলদের প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় রয়েছে। এখন বছরে ১৬ থেকে ২০ লাখ ডলার সমমানের পণ্য বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে নিয়ে যান তাঁরা। পাইকারি হিসেবে সেখানে তা বিক্রি করেন। আলু, কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, পেঁপে, শিমসহ নানা ধরনের সবজি তাঁরা নিয়ে যান।
মোজাম্মেল বলেন, মৌসুমি ফলের মধ্যে সেখানে আম, কাঁঠাল ও জামের চাহিদা বেশি।
মোজাম্মেল আর তাঁর ভাই বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে সবজি ও ফল আমদানি করেন। এ ছাড়া স্থানীয় বাজার থেকেও পাইকারি দামে সবজি ও ফল কিনে তা আবার খুচরা বাজারে বিক্রি করেন।
দিন দিন তাঁদের ব্যবসার পরিধি বাড়ছে। এখন সবজি ও ফল কাতার ও বাহরাইনেও বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। ২০১৮-১৯ সালে তাঁরা ৯ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছিলেন। তখন ২০২০ সালের রপ্তানি ট্রফির জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সে পুরস্কার দিতে দেরি হয়েছে। সম্প্রতি সে পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মোজাম্মেলদের বাড়ি হাটহাজারীর গড়দুয়ারা এলাকায়। তাঁরা চার ভাই। বাবা আবুল কাশেমও একসময় দুবাইয়ে শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি একেবারে দেশে চলে আসেন। এখন মোজাম্মেল, হাসনাত এবং তাঁদের আরেক ভাই জুনায়েদ সেখানে থাকেন। জুনায়েদ দুবাইয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায়ও একটি বহুতল ভবনের মালিক তাঁরা। এসবের মূলে রয়েছে দুবাইয়ে তাঁদের এই আমদানি ব্যবসা।
দেশ থেকে রেমিট্যান্স–যোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়ে ভালো লাগছে মোজাম্মেলের। তিনি বলেন, এখন ব্যবসা প্রতিদিন বাড়ছে। গত বছরও ১৬ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে আবারও স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেছেন। সেই পুরস্কারও পাবেন বলে আশাবাদী মোজাম্মেল।
মোজাম্মেলের প্রতিষ্ঠানে এখন ৪৩ জন কর্মী আছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন ছাড়া বাকিরা বাংলাদেশি। তাঁর আশা ভবিষ্যতে আরও কর্মী নিয়ে যেতে পারবেন দেশ থেকে। এতে করে বাংলাদেশের অনেক পরিবারে সচ্ছলতা এনে দিতে পারবেন।