সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়
আপিল বিভাগেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া সমীচীন: অ্যাটর্নি জেনারেল
সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় তিন মাসের মধ্যে প্রতিষ্ঠার নির্দেশ–সংবলিত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ। নিজ কার্যালয়ে আজ বুধবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস।
এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ওই রায় দেন। ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ হাইকোর্ট রায়ে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। হাইকোর্ট নিজেই কিন্তু এই রায় যে চূড়ান্ত—এটা মনে করেছেন বলে মনে হয়নি। কারণ, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদের (২)(ক) দফায় উল্লেখ আছে, হাইকোর্ট যখন কোনো মামলা নিষ্পত্তি করেন এবং সেই নিষ্পত্তির পরেও যদি সাংবিধানিক প্রশ্ন জড়িত থাকে, সে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট—এই মর্মে সার্টিফিকেট (আপিল করার জন্য) দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে, অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যেহেতু সংবিধানের ব্যাখ্যার প্রয়োজন এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ—আমার মনে হয় এটা আপিল বিভাগেই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়াটাই কাম্য এবং সমীচীন। সেটি প্রকারান্তরে সার্টিফিকেট দেওয়ার মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগও মনে করেছেন। ...সংবিধান ব্যাখ্যার বিষয়ে আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখানে জড়িত। সুতরাং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা আপিল দায়ের করব, যত দ্রুত সম্ভব।’
হাইকোর্টের রায়ে বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। বিদ্যমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে অধস্তন আদালতগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিষয়ে বলা আছে। এতে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা বিধানের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে বলে হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুসারে তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ছাড়া সংবিধান ও আইনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা জড়িত থাকায় আপিল করার জন্য সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়।
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি দান, ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত থাকবে।