প্রয়াত অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ছিলেন একজন মানবদরদি চিকিৎসক। তাঁর দরদ লোকদেখানো ছিল না। বরং তিনি এই দরদে বিশ্বাস করতেন। তাঁর দর্শন ছিল একজন চিকিৎসককে রোগীর প্রতি অনেক বেশি বিনয়ী হতে হবে। রোগীকে সেবা দেওয়াই একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব।
আজ শনিবার এক স্মরণসভায় এভাবেই বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের স্মৃতিচারণা করেন বক্তারা। তাঁর ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজধানীর বারডেম মিলনায়তনে এ স্মরণসভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি হাসপাতাল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার হোমের পরিচালক অধ্যাপক এম এ হাই বলেন, ‘রোগীর রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ অতীত ইতিহাস আর বাকি ৩০ শতাংশ পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করার পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম।’
রোগ সম্পর্কে রোগীর জানার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের এই ছাত্র বলেন, ক্যানসার হলে রোগীকে জানাতে হবে। রোগীর জানার অধিকার রয়েছে, তাঁর কী রোগ হয়েছে। রোগ সম্পর্কে রোগীকে জানানোর এই সংস্কৃতি তৈরি করেছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অনেক সময় ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা শেষ করা যায় না উল্লেখ করে অধ্যাপক এম এ হাই বলেন, ‘শুধু সায়েন্টিফিক ওয়েতে (বৈজ্ঞানিক উপায়ে) গেলে পরে হবে না। আমাদের স্পিরিচুয়াল কানেকশন (আধ্যাত্মিক সংযোগ) লাগবে। এ ছাড়া কোনো রাস্তা নাই। কারণ, দেখলাম, কিছু কিছু ক্যানসার রোগী অ্যাডভান্স স্টেজে চলে গেছে, চিকিৎসার বাইরে চলে গেছে, চিকিৎসায় কাজ হচ্ছে না। তাঁদের মধ্য থেকে কিছু কিছু রোগী ভালো হয়ে গেছে। কী করে ভালো হয়? এগুলো নিয়ে অনেক কাজ আছে।’
এই চিকিৎসক দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে অনেক ক্যানসারের রোগী আধ্যাত্মিক সংযোগের কারণে সুস্থ হয়েছেন। সুস্থ হওয়া রোগীদের মধ্যে প্রায় ১০টি অভ্যাসের মিল পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যাভ্যাস, রোগীর মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা, আধ্যাত্মিক সংযোগ এবং শারীরিক ব্যায়াম প্রভৃতি।
স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। প্রয়াত অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক ছাড়াও মোহাম্মদ ইব্রাহিম ছিলেন মানুষের প্রতি অসম্ভব দরদি একজন মানুষ। যেই দরদ লোকদেখানো ছিল না। বরং তিনি এতে বিশ্বাস করতেন।
ভালো মানুষ না হলে ভালো চিকিৎসক ও নার্স কোনোটিই হওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে এ কে আজাদ খান বলেন, ‘ভালো মানুষ হওয়া ভালো ডাক্তার ও নার্স হওয়ার পূর্বশর্ত। এই আদর্শ লালন করতেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম।’
ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, রোগীকে আশ্বস্ত করেই চিকিৎসা সম্পন্ন করতে হবে—মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দর্শন এমনই ছিল। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, মোহাম্মদ ইব্রাহিম শিখিয়েছিলেন রোগীকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসককে অহংবোধ ত্যাগ করে কীভাবে বিনয়ী হওয়া যায়।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বারডেমের মহাপরিচালক অধ্যাপক মির্জা মাহবুবুল হাসান। সঞ্চালনা করেন সুলতানা ইয়াসমিন ও জেসমিনা হক।