এমএসএফ বলেছে, কে কোথায় কখন অপহৃত হবে, কোথায় কার লাশ পাওয়া যাবে, তা মানুষের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তারা যত ক্ষমতাবানই হোক, সব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। কাজেই সরকারকেই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।  

অক্টোবর মাসে কারা হেফাজতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এমএসএফ। হেফাজতে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন কয়েদি ও একজন হাজতি। কারাগারে অপর্যাপ্ত চিকিৎসার কারণে অসুস্থ অধিকাংশ বন্দীকে কারাগারের বাইরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এমএসএফ বলেছে, কারাগারের অভ্যন্তরে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি, হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনার সঠিকভাবে তদন্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

চলতি মাসে বিরোধী দল বিএনপির চার দাবিতে বিভাগীয় শহরে সমাবেশকে কেন্দ্র  করে ধাপে ধাপে সড়ক, রেল ও নৌপথ—এ তিন পথেই যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশি হয়রানি, ক্ষমতাসীন দলের কর্মী দ্বারা পথে পথে বাধা, হুমকি, আক্রমণ, মারধর, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া, সমাবেশ শেষে এলাকায় ফিরে হামলার শিকার, নেতা-কর্মী আটক, নেতা-কর্মীর বাড়িঘরে হামলা—এসব বাধার অভিযোগ এনে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুর—এই চার বিভাগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়া এভাবে যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমাবেশে আসা রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও।  

এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে  ৩৬৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৬১টি, দলবদ্ধ ধর্ষণ ২০টি, ধর্ষণ ও হত্যা ২টি। এর মধ্যে ৩ জন প্রতিবন্ধী নারী ও ১ কিশোরীও ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনটি প্রতিবেদনে বলেছে, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা লক্ষণীয় নয়। এ কারণে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা ক্রমে বেড়েই চলেছে। সমাজে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ করতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে সীমান্ত হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, বরং ঘটেই চলেছে। এ মাসে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক গুলিতে দুজন নিহত, দুজন গুলিবিদ্ধ, একজন নির্যাতনের শিকার ও একজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপরদিকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে একজন রোহিঙ্গা মারা যায়, অপর একজন রোহিঙ্গা ও একজন বাংলাদেশি নাগরিকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এমএসএফ বলেছে, সরকার সীমান্ত হতাহতের প্রতিবাদ ও প্রতিকারে যে ব্যর্থতা দেখাচ্ছে, তা জনমনে ক্রমে প্রশ্নের সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমানা আইনের লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তরেখায় মাইন বসানো ছাড়াও প্রতিনিয়ত বিজিবির সদস্যরা মর্টার শেল নিক্ষেপ করে চলেছে।

অবিস্ফোরিত মর্টার শেল দেখে স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশ কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃক সীমান্তে বাড়াবাড়ি থামেনি। সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য হতে পারে না।