চট্টগ্রামের ৩০০ ডায়াবেটিক রোগীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। পাঁচ বছর ধরে চলা এই গবেষণায় দেখা যায়, চট্টগ্রামে প্রতি তিনজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজনের জিনগত পরিবর্তন এসেছে। এই জিনগত পরিবর্তন ইনসুলিন তৈরির প্রবণতা কমিয়ে দেয় বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।

গবেষকেরা জানান, টিসিএফ-৭ এল-২ নামের এই জিন প্রতিটি মানুষের মধ্যেই থাকে। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগীদের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে এই জিনে মিউটেশন বা জিনগত পরিবর্তন দেখা গেছে।

অধ্যাপক আদনান মান্নান বলেন, ধারণা করে হচ্ছে—এই জিনগত পরিবর্তন থাকলে ইনসুলিন ও মেটফরমিন–জাতীয় ওষুধ অকার্যকর হয়ে পড়ে। অল্প বয়সে এই জিনগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ডায়াবেটিসের সম্ভাব্যতা যাচাই করা সম্ভব। তবে এ ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কী ওষুধ প্রয়োগ করা দরকার, তা আরও বিশদ গবেষণার দাবি রাখে।

অধ্যাপক আদনান মান্নান আরও বলেন, চট্টগ্রামে যেখানে ১০ বছর আগে ৩৭ ভাগের মতো ডায়াবেটিস রোগী ছিল। এখন তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এখন তা বেড়ে ৬০ ভাগের ওপরে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে অন্যান্য রোগের আধিক্য বাড়ছে।

গবেষণা সূত্র জানায়, এই জিনগত পরিবর্তন যাঁদের মধ্যে প্রকট ছিল, তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডায়াবেটিসের প্রচলিত প্রতিষেধক ইনসুলিন ও মেটফরমিন ব্যবহারের নির্দেশনা দেননি চিকিৎসকেরা।

গবেষকেরা জানান, ডায়াবেটিস রোগীদের জিনগত পরিবর্তন প্রাথমিকভাবে ভৌগোলিক অবস্থান, জীবনযাত্রার মান, খাদ্যাভ্যাসের কারণে হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাঁদের মতে, দিন দিন বাড়ছে তরুণ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা। গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে ৪০ বছরের কম বয়সী এমন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এর সঙ্গে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেড়ে চলেছে বহুমুখী সমস্যা। ৬০ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে দেখা যাচ্ছে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা।

জানতে চাইলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফারহানা আকতার বলেন, ডায়াবেটিস রোগী অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেড়েছে। অনেকে জানেন না যে রোগটি তাঁর হয়েছে। আবার অনেকের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন। এখন তরুণেরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।