প্রশিক্ষণহীন বিক্রেতার পরামর্শে জমিতে কীটনাশক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে; সরকারি তদারকি কম

সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই বেগুনখেতে বালাইনাশক ছিটাচ্ছেন এক কৃষকফাইল ছবি: প্রথম আলো

ফসলের খেতে পোকা দেখলেই সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বারাকান্দী গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম ছুটে যান স্থানীয় কীটনাশকের দোকানে। কোন কীটনাশক ব্যবহার করবেন, কতটুকু দেবেন কিংবা কতবার ছিটাবেন—এসব বিষয়ে তিনি দোকানদারের পরামর্শই মেনে চলেন। শুধু তা–ই নয়, কীটনাশক প্রয়োগের দুই-এক দিনের মধ্যে তিনি অনেক সময় শাকসবজি তুলে বাজারে নিয়ে যান।

শহিদুলের ভাষ্য, এসব বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ বা মাঠপর্যায়ে তদারকি খুব একটা পান না তিনি। এ কারণে সমস্যা সমাধানে তাঁকে দ্রুত কীটনাশকের দোকানে যেতে হয়।

শহিদুলকে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেন একই এলাকার কীটনাশক বিক্রেতা মোহাম্মদ সোনাউল্লা। তাঁর নিজের কোনো কীটনাশক বিক্রির অনুমতি বা লাইসেন্স নেই। অন্য একজনের লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা করেন। কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও নেননি তিনি।

গবেষণায় উঠে এসেছে, কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা নিতে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতা বা ডিলারের ওপর নির্ভর করেন। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কৃষক সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক ব্যবহার করেন। আবার জরিপে অংশ নেওয়া কিছু কৃষক বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কীটনাশকও ব্যবহার করছেন।

মোহাম্মদ সোনাউল্লা বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি কৃষকদের ওষুধ বেছে দেন এবং ব্যবহারবিধি বুঝিয়ে দেন। তবে নিরাপদ মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, ফসল তোলার আগে কত দিন অপেক্ষা করতে হয় (উইথহোল্ডিং পিরিয়ড) কিংবা কোন কোন কীটনাশক দেশে নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই।

শহিদুল ও সোনাউল্লার এই সম্পর্ক কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দেশের অনেক এলাকায় ফসলের মাঠে কীটনাশক ব্যবহারের সিদ্ধান্তে কৃষকের প্রধান ভরসা এখনো খুচরা বিক্রেতা। সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ ব্যবস্থার সীমিত উপস্থিতি, দুর্বল তদারকি এবং তথ্যের ঘাটতির কারণে অনানুষ্ঠানিক এই পরামর্শব্যবস্থাই হয়ে উঠেছে কৃষকের নির্ভরতার জায়গা।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা নিতে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতা বা ডিলারের ওপর নির্ভর করেন। প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কৃষক সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক ব্যবহার করেন। আবার জরিপে অংশ নেওয়া কিছু কৃষক বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কীটনাশকও ব্যবহার করছেন।

কৃষিবিদেরা বলছেন, বালাই নিয়ন্ত্রণ ও ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কীটনাশক হতে পারে সহায়ক ব্যবস্থা। তবে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে এই কীটনাশকই হয়ে উঠছে বিষ, যা সরাসরি মিশছে মাটিতে, পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তার খাদ্যতালিকায়।

ফসলের খেতে কীটনাশক প্রয়োগের বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ বা মাঠপর্যায়ে তদারকি খুব একটা পান না তিনি। এ কারণে সমস্যা সমাধানে তাঁকে দ্রুত কীটনাশকের দোকানে যেতে হয়।
শহিদুল ইসলাম, কৃষক, সিরাজগঞ্জ

বিক্রেতার পরামর্শেই সিদ্ধান্ত

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের গবেষকেরা টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের ৬০০ কৃষকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালের চাষ মৌসুমে এর তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণাটির লক্ষ্য ছিল কৃষকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর কীটনাশকের প্রভাব মূল্যায়ন করা। গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা নিতে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতা বা ডিলারের ওপর নির্ভর করেন। কীটনাশকের গায়ে লেখা নির্দেশনা অনুসরণ করেন মাত্র প্রায় ১৯ শতাংশ কৃষক। আর প্রায় ১২ শতাংশ কৃষক নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।

ধানখেতে কীটনাশক ছিটানো হচ্ছে
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

অর্থাৎ কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃষকের বড় অংশই নির্ভর করছেন এমন ব্যক্তিদের ওপর, যাঁদের অনেকের কৃষিবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই।

গবেষণার তথ্য বলছে, নিরাপদ মাত্রা মেনে কীটনাশক প্রস্তুত করেন প্রায় এক-চতুর্থাংশ কৃষক। বাকি প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সুপারিশের চেয়ে বেশি ঘনত্বে কীটনাশক ব্যবহার করেন। সিরাজগঞ্জে এই হার প্রায় ৬৯ শতাংশ।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টাঙ্গাইলে ১২ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জে ২০ শতাংশ কৃষক এমন কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যেগুলো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। সিরাজগঞ্জে প্রায় ৩ শতাংশ কৃষক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তালিকাভুক্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক শ্রেণির কীটনাশকও ব্যবহার করছেন।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের গবেষকেরা টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের ৬০০ কৃষকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালের চাষ মৌসুমে এর তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

৬৮ হাজার খুচরা ডিলার, তদারকিতে সীমিত জনবল

মাঠপর্যায়ে কীটনাশক বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া ও তদারকির দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের। সংস্থাটির উদ্ভিদ সংরক্ষণ শাখার (উইং) তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৯০০ ব্র্যান্ডের ৩২৭ ধরনের কীটনাশক নিবন্ধিত আছে। আর সারা দেশে খুচরা ডিলারের সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার। পাইকারি ডিলার প্রায় ৫ হাজার ৭০০।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য উপজেলা পর্যায়ে তিনজন এবং জেলা পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা পেস্টিসাইড ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। এই হিসাবে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে গড়ে প্রায় ৪৪ জন খুচরা ডিলার তদারকি করতে হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত কৃষক প্রশিক্ষণে কীটনাশক প্রয়োগের সতর্কতা সম্পর্কে কৃষকদের জানানো হয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার দায়িত্ব কৃষকের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি কৃষকের বাড়িতে নিয়মিত গিয়ে খোঁজ নেওয়ার মতো জনবল মাঠপর্যায়ে নেই।

অনুমোদন ছাড়া কীটনাশক বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে জানিয়ে ওবায়দুর রহমান বলেন, প্রশাসনের সহায়তা ছাড়া অধিদপ্তরের একার পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর তাঁদের নির্ভর করতে হয়।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি কৃষকদের ওষুধ বেছে দেন এবং ব্যবহারবিধি বুঝিয়ে দেন। তবে নিরাপদ মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, ফসল তোলার আগে কত দিন অপেক্ষা করতে হয় (উইথহোল্ডিং পিরিয়ড) কিংবা কোন কোন কীটনাশক দেশে নিষিদ্ধ—এসব বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই।
মোহাম্মদ সোনাউল্লা, কীটনাশক বিক্রেতা, সিরাজগঞ্জ

নিয়ম জানেন, তবে মানেন না

কীটনাশক ব্যবহারের পর থেকে ফসল তোলার আগে নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই সময়কে বলা হয় ‘উইথহোল্ডিং পিরিয়ড’। এ সময়ের আগে ফসল বাজারজাত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিয়ম সম্পর্কে জানেন মাত্র ৪১ শতাংশ কৃষক। তাঁদের মধ্যেও প্রায় ৩৯ শতাংশ মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞা মানা বাধ্যতামূলক নয়। আর প্রায় এক-চতুর্থাংশ কৃষক মনে করেন, নির্ধারিত সময়ের আগে ফসল তুললেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।

গবেষণার আরেকটি বিষয় বেশ উদ্বেগজনক। যাঁরা ‘উইথহোল্ডিং পিরিয়ড’ সম্পর্কে জানেন বলে জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যেই অনিরাপদ চর্চা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, টাঙ্গাইলে ১২ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জে ২০ শতাংশ কৃষক এমন কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যেগুলো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। সিরাজগঞ্জে প্রায় ৩ শতাংশ কৃষক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তালিকাভুক্ত অত্যন্ত বিপজ্জনক শ্রেণির কীটনাশকও ব্যবহার করছেন।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকার একমাত্র কারণ অপেক্ষাকাল না মানা নয়। দেশে ব্যবহৃত কীটনাশকের বড় অংশই নিম্নমানের এবং অপরিশোধিত। এসব কীটনাশকে ভারী ধাতুসহ তেজস্ক্রিয় উপাদান মিশে থাকার আশঙ্কা অত্যন্ত বেশি।

আমদানি পর্যায়ে কীটনাশকের গুণগত মান পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান না থাকায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলেও মনে করেন কেউ কেউ। তাঁরা বলছেন, অনেকের মধ্যে কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ও একাধিক কীটনাশক একসঙ্গে মেশানোর প্রবণতা দেখা যায়। খাদ্যশৃঙ্খলে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

কৃষকের মাঠ থেকে ভোক্তার খাবারে

কীটনাশকের ঝুঁকি শুধু ভোক্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরাসরি কীটনাশক প্রয়োগকারী কৃষকেরাও এর প্রভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জে জরিপে অংশ নেওয়া কৃষকদের অর্ধেকের বেশি কীটনাশক ব্যবহারের পর ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো স্বাস্থ্যসমস্যার কথা জানিয়েছেন। অথচ কীটনাশক ছিটানোর সময় নিয়মিত গ্লাভস, মাস্ক বা অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করেন মাত্র ১৯ শতাংশ কৃষক।

প্রায় ৬৩ শতাংশ কৃষক স্প্রে করার সময় বাতাসের দিকও বিবেচনা করেন না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত কৃষক প্রশিক্ষণে কীটনাশক প্রয়োগের সতর্কতা সম্পর্কে কৃষকদের জানানো হয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার দায়িত্ব কৃষকের।
ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, পরিচালক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর

কীটনাশক নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োসায়েন্স ইন্টারন্যাশনালের (সিএবিআই) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪৯ হাজার মেট্রিক টন কীটনাশক ব্যবহার হয়। প্রতিবছর এর ব্যবহার বাড়ছে।

কীটনাশক ব্যবহারের নির্দেশনা নিতে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক খুচরা বিক্রেতা বা ডিলারের ওপর নির্ভর করেন
ফাইল ছবি: প্রথম আলো

জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, এর প্রভাব শুধু কৃষকের শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। অতিরিক্ত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং নিরাপদ অপেক্ষাকাল না মেনে দ্রুত ফসল বাজারে তোলায় খাদ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকার ঝুঁকিও বাড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশে প্রায় প্রতিটি কৃষিপণ্যেই এখন মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। দিনের পর দিন ফল, সবজি ও ফসলের খেতে কীটনাশক ছিটিয়ে একদিকে কৃষক, অন্যদিকে ভোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জে জরিপে অংশ নেওয়া কৃষকদের অর্ধেকের বেশি কীটনাশক ব্যবহারের পর ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো স্বাস্থ্যসমস্যার কথা জানিয়েছেন। অথচ কীটনাশক স্প্রে করার সময় নিয়মিত গ্লাভস, মাস্ক বা অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করেন মাত্র ১৯ শতাংশ কৃষক।

বে-নজির আহমেদের ভাষ্য, গ্যাস্ট্রিক, লিভারের সমস্যা, বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার, চর্মরোগসহ একাধিক রোগের সঙ্গে কীটনাশকের সংশ্লিষ্টতা আছে।

আরও পড়ুন

নীতিমালা করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি

টেকসই কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং মাটি, পানি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বালাইনাশকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সম্প্রতি ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

কমিটির সদস্য সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন প্রথম আলোকে বলেন, কীটনাশক নিজেই একধরনের বিষ। তবে জাতীয় বিধিমালা অনুযায়ী, এই বিষ হতে হবে বিশুদ্ধ। এতে ভারী ধাতু বা তেজস্ক্রিয় উপাদানের মতো ক্ষতিকর কিছু থাকার কথা নয়।

দেশে প্রায় প্রতিটি কৃষিপণ্যেই এখন মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। দিনের পর দিন ফল, সবজি ও ফসলের খেতে কীটনাশক ছিটিয়ে একদিকে কৃষক, অন্যদিকে ভোক্তারা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
বে-নজির আহমেদ, সাবেক পরিচালক, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

কীটনাশকে এ ধরনের দূষণ থাকলে শুধু কীটনাশকের বিষক্রিয়াই নয়, বাড়তি ক্ষতিকর উপাদানও মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুব কবির মিলন বলেন, কীটনাশকের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে কীটনাশক উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। আমদানি করা কীটনাশকের মান পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।