মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় মেহেরপুর গাংনী উপজেলার পিরতলা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই সুবির রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্য আলাউদ্দীন ও জাহিদ হোসেন রাতে পাহারার জন্য সাহেবনগর গ্রামের মোড়ে পৌঁছান। এ সময় খবর আসে কাজিপুর গ্রাম হয়ে ফেনসিনডিলসহ একটি মাইক্রোবাস বামুন্দীর দিকে আসছে। এ সময় সেখানে গাছের তিনটি গুঁড়ি ফেলা হয় মাইক্রোবাসটি থামানোর জন্য। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থলে আসে। গাড়িটি থামানোর জন্য সিগন্যাল দেয় পুলিশ। মাইক্রোবাসটি সিগন্যাল অমান্য করে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ সদস্য আলাউদ্দীন শর্টগান দিয়ে আঘাত করে মাইক্রোবাসটির চালকের দরজার গ্লাস ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় চালক ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে আলাউদ্দীনকে ফেলে দেন। তিনি ছিটকে মাইক্রোবাসের বাম্পারের ওপর পড়েন। ওই গাড়ি থেকে দুটি বস্তা ফেলে দেন গাড়িচালক এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সদস্যরা। এ সময় আলাউদ্দীনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাইক্রোবাসটি ধরার জন্য বামুন্দী পুলিশ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা গাড়িটিকে ধাওয়া করেন। এতে অংশ নেয় কুষ্টিয়ার মিরপুর থানা। একপর্যায়ে গাড়িটি মিরপুর উপজেলার বলিদাপাড়া গ্রামের আনিচের বাড়ির পাশে বাঁশবাগানের পাশে ফেলে তাঁরা পালিয়ে যান। এ সময় ওই গাড়ি থেকে ৫০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়। ফেলে দেওয়া দুটি বস্তা থেকে জব্দ করা হয় ৩৪০ বোতল ফেনসিডিল।

এদিকে ওই ঘটনায় রাতেই কুষ্টিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আলাউদ্দীন।

বলিদাপাড়ার আনিচ ও শাকিল হোসেনকে আসামি করে ২৫ জুলাই গাংনী থানায় একটি মাদক ও হত্যা মামলা করেন ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই সুবির রায়। তদন্তভার পড়ে গাংনী থানার তৎকালীন ইন্সপেক্টর মুক্তার হোসেনের ওপর। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই দুই মামলায় ২৯ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় আসামি করা হয় বলিদাপাড়ার আনিচ, তাহাজ্জত হোসেন, শাকিল হোসেন ও রুবেল হোসেনকে। আর মাদক মামলায় আসামি করা হয় ওই চারজনসহ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের সিদ্দিক হোসেন ও আতিয়ার রহমানকে।

হত্যা মামলায় ১৬ ও মাদক মামলায় ১২ জন সাক্ষ্য দেন। হত্যা মামলায় ওই চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাদক মামলায় তাঁদের ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন