বিএনপি সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে বলে ইইউর আশাবাদ
বিচার বিভাগ, শ্রম অধিকারসহ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নেওয়া নানা খাতে সংস্কারের কার্যক্রম বিএনপি সরকার এগিয়ে নেবে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি এই সরকার বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে বলেও মনে করে তারা।
আজ সোমবার ঢাকায় অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদেশের রাষ্ট্রদূতেরা নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের কাছে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলোচনা শেষে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, বৃহত্তম বিনিয়োগকারী, উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সহায়তা প্রদানকারী এবং নবনির্বাচিত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন।
দুজনের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে মাইকেল মিলার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা এবং সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদী। বৈঠকে রাজনীতি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য, উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, অভিবাসনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন–বাংলাদেশ সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আলোচনায় নব নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা আশা করছি, পূর্ববর্তী প্রশাসনের অধীনে শুরু হওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নতুন সরকার অব্যাহত রাখবে। বিশেষ করে বিচার বিভাগীয় সংস্কার, বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রবর্তনের উদ্যোগ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন–বাংলাদেশ সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই ।’
দুই পক্ষের মধ্যে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ) সইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে মাইকেল মিলার বলেন, এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগির বাংলাদেশের সঙ্গে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আলোচনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার প্রসঙ্গটি এসেছে কি না, জানতে চাইলে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মৌলিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের আলোচনায় এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়েছে।’
এদিকে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ইইউভুক্ত রাষ্ট্রদূতেরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশংসা করেন এবং সংবিধান, বিচার বিভাগ, শ্রম খাতসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে তাঁদের অব্যাহত সম্পৃক্ততার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৃহৎ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন (ইওএম) পাঠানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, আইনের শাসন ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, মানবিক বিষয়, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, সুনীল অর্থনীতি, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এসব পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে দিনের শুরুতে রাষ্ট্রদূতেরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পারস্পরিক লাভজনক এ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি অভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক ক্ষেত্রগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।