ভাষা আন্দোলনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কাজী এবাদুল হক ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক শরিফা খাতুনও ভাষাসৈনিক, যিনি ২০১৭ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। তাঁদের চার সন্তানের মধ্যে কনিষ্ঠ মেয়ে কাজী জিনাত হক হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি।

আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর সুপ্রিম কোর্ট মূল ভবনের ভেতরের প্রাঙ্গণে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানীর নিকুঞ্জ দক্ষিণ আবাসিক এলাকা মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত জানাজায় প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আবদুন নূর ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকারসহ প্রমুখ অংশ নেন। জানাজা শেষে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

কাজী এবাদুল হক ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারি ফেনীর বালীগাঁ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ফেনী শহরে ভাষা আন্দোলনকে সংগঠিত করতে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল। ১৯৫৪ সালে ফেনী ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করে ফেনী জেলা আদালতে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবাদুল হক। ১৯৬৬ সালে তিনি তৎকালীন ঢাকা হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

১৯৯০ সালে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হিসেবে যোগ দেন তিনি। হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বাংলা ভাষায় নজির সৃষ্টিকারী রায় দেন তিনি। ২০০০ সালে আপিল বিভাগের বিচারপতি হন তিনি, ২০০১ সালে অবসর যান।

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন সাবেক এই বিচারপতি। ২০১০ সালে ‘ফেলে আসা সেসব দিনের কথা’ নামে আত্মজীবনীমূলক বই লিখেন তিনি। এ ছাড়া বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ‘বিচার ব্যবস্থার বিবর্তন’ ও ‘ভূমি আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনার ক্রমবিকাশ’ বইয়েরও লেখক তিনি।

বিচারপতি এবাদুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন