বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: মানুষের ওপর চাপ বাড়বে, সরকারেরও উপায় ছিল না

জাহিদ হোসেন

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির দুটি দিক। একটি হলো মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কী হবে? দ্বিতীয়টি হলো এটির বিকল্প কী ছিল?

বর্তমান সরকার বড় আকারের একটি জাতীয় বাজেট করতে যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধি, সুদব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা খাতে সরকারের ব্যয় বাড়ছেই; কিন্তু রাজস্ব আদায় কম।

সরকারকে বিপুল ভর্তুকিও দিতে হয়। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অনেক বেশি। পুরো বাজেট–ব্যবস্থাকে সেটি অস্থিতিশীল করে দেয়। আরেকটি বিষয় হলো বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকির বড় সুফল পান সচ্ছল ও ধনী মানুষেরা। তাঁদের ভর্তুকি দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর দুটি উপায়। একটি হলো মূল্যবৃদ্ধি, অন্যটি ব্যয় কমানো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে উচ্চ ব্যয়ের কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ। এটি কমাতে গেলে চুক্তিতে পরিবর্তন লাগবে। সেটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমার মনে হয়, এখন সরকারের হাতে আর কোনো উপায় ছিল না। এখনো বিদ্যুতে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ভর্তুকি কমানোর জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে যথেষ্ট হবে না। ফলে খরচ কমানোর চেষ্টাগুলো চালিয়ে যেতে হবে।

বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার চড়া। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে তা আরও বাড়বে। আমার অনুমান, শুধু বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি আগামী এক বছরে ১০০ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে যেতে পারে। কারণ, বিদ্যুতের দামের কারণে পণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়বে, বিক্রির খরচও বাড়বে। গত চার বছরে মূল্যস্ফীতির কারণে সীমিত আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় অনেক কমে গেছে।

তাহলে সমাধান কী? সমাধান হলো বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রেখে মুদ্রাস্ফীতিকে অন্যভাবে মোকাবিলা করা। বাজার ব্যবস্থাপনা, মুদ্রানীতি, বিনিময় হার, ব্যাংকিং খাতের দুর্দশা কাটানো—এই বড় বিষয়গুলো যদি ঠিক রাখা যায়, তাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা যায়। তখন মানুষকে বাজারে গিয়ে দেখতে হবে না যে ১০০ টাকার পণ্য রাতারাতি ১৫০ টাকা হয়ে গেছে।

জাহিদ হোসেন: বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ