কাঁঠাল দিয়ে পিঠা, শিঙাড়া, সমুচা তৈরি হচ্ছে, কয়েকটা দেশ কাঁঠাল নিতে কথা বলছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠা থেকে শুরু করে শিঙাড়া, সমুচা, কাবাব—সবকিছু তৈরি হচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো এই কাঁঠালের কাবাব বা কাঁঠালের সবজি ফুড ভ্যালুতে (পুষ্টিগুণে) কিন্তু অনেক হাই (উচ্চ)।’
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, আমাদের থেকে কাঁঠাল নিয়ে এ ধরনের পণ্য তৈরি করার জন্য। একই সঙ্গে আমরাও স্থানীয়ভাবে ডেভেলপ করছি।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। তিন দিনব্যাপী ফল মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফল নিয়ে মেলা প্রতিবছর হয়। বাংলাদেশ ফল উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছে, মেলা ঘুরে দেখলে বোঝা যাবে। মেলায় বিলুপ্ত প্রজাতির দেশি ফল উঠিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশি যেসব ফল দেশে উৎপাদন হয়, সেগুলোও মেলায় প্রদর্শন করা হচ্ছে। বিদেশি ফল দেশে উৎপাদন হওয়ায় আমদানি কমেছে, ভবিষ্যতে আমদানি করতে হবে না।
আমিন উর রশিদ বলেন, ‘আম, আনারস, কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হয়েছে। এ বছর কাঁঠাল রপ্তানি আরও বেড়ে যাবে। ফলের রপ্তানি বাড়াতে আগামী দিনে আমরা বিদেশেও মেলার আয়োজন করব।’
দেশে ড্রাগন ফলের উৎপাদন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েক বছর আগে ড্রাগন ফল আমদানি করতে হতো। এখন আমরা স্বপ্ন দেখছি, ড্রাগন ফল রপ্তানির। আমাদের দেশের আবহাওয়ার কারণে আমরা এ সাহস পাচ্ছি। কারণ, বাইরের দেশের ড্রাগন এত সুস্বাদু হয় না।’
পরে কৃষিমন্ত্রী ফল মেলা উপলক্ষে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের পাশে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্যের বিভিন্ন ধরন নতুন নতুন উদ্যোক্তারা তৈরি করা শুরু করেছেন; এটা অনেক আকর্ষণীয় ব্যাপার। আমি এখানে দেখলাম, কাঁঠাল দিয়ে কাবাব তৈরি হচ্ছে, কাঁঠাল দিয়ে চপ তৈরি হচ্ছে, কাঁঠাল দিয়ে পাকোড়া তৈরি হচ্ছে। এটা সত্যি প্রশংসনীয়।’
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে ফল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আনারস, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে।
আমিন উর রশিদ বলেন, নিরাপদ ও মানসম্মত ফল উৎপাদন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বৃদ্ধি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। ফলের অপচয় রোধ ও বছরব্যাপী সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারকে ফলের গাছ রোপণ এবং নিয়মিত দেশীয় ফল গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন।