বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঢাকা রক্তকেন্দ্রে যুক্ত হলো আরও ১২ শয্যা

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঢাকা রক্তকেন্দ্রে সোমবার এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন করে আরও ১২টি শয্যা যুক্ত করা হয়
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ঢাকা রক্তকেন্দ্রে নতুন করে আরও ১২টি শয্যা যুক্ত হয়েছে। এখন থেকে মোট ২৫টি শয্যার মাধ্যমে রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা দিতে পারবে কেন্দ্রটি। সোমবার সকালে এক অনুষ্ঠানে নতুন শয্যার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এ টি এম আবদুল ওয়াহ্হাব। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রের থ্যালাসেমিয়া ওয়ার্ড ও ল্যাব পরিদর্শন করে আবদুল ওয়াহ্হাব বলেন, ‘সরকারের অনুমোদিত রক্তদান কেন্দ্র হিসেবে ১৯৮১ সাল থেকে রক্ত সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। রেড ক্রিসেন্ট ঢাকা রক্তকেন্দ্রের ১৩টি শয্যার মাধ্যমে সপ্তাহে ৬ দিন থ্যালাসেমিয়া, ক্যানসার ও অন্যান্য রোগীদের রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা দেওয়া হয়। নতুন করে শয্যা বৃদ্ধি করে এই সেবার পরিধি আরও বাড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে সোসাইটির মহাসচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসাপদ্ধতি খুবই জটিল এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। রেড ক্রিসেন্ট রক্তকেন্দ্রগুলো থ্যালাসেমিয়া, ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ রক্ত সরবরাহ করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ব্যয়বহুল এই চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।’

রেড ক্রিসেন্ট ঢাকা রক্তকেন্দ্র আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সদস্য শিকদার নূর মোহাম্মদ দুলু, রক্ত কর্মসূচির পরিচালক ইমাম জাফর শিকদার, জাতীয় সদর দপ্তরের বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, আন্তর্জাতিক ফেডারেশন অব রেডক্রস রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (আইএফরআরসি) হেড অব ডেলিগেশন সঞ্জীব কাফলেসহ রক্তদাতা-রক্তকেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোসাইটির উদ্যোগে চলতি বছরে প্রায় ৬৫ হাজার ব্যাগ রক্ত ও রক্তের উপাদান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৮০ হাজার ব্যাগ রক্ত ও রক্তের উপাদান বিতরণ করা হয়েছে। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য প্রায় ১০ হাজার ব্যাগ রক্ত, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রায় ৩ হাজার ব্যাগ প্লাটিলেট এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা (এফএফপি) সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত হাসপাতালে রক্ত ও রক্তের ব্যাগ সরবরাহ করার কাজ চলমান রয়েছে।