হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

জামালপুরের সাংবাদিক গোলাম রব্বানি ওরফে নাদিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি কারাবন্দী সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম ওরফে বাবুকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জামিন স্থগিত চেয়ে আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করেছে। আবেদনের ওপর আগামীকাল বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানি হতে পারে।

এর আগে ওই মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে চলতি মাসে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মাহমুদুল আলম। শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল দিয়ে ছয় মাসের জামিন দেন। আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আনোয়ারা শাহজাহান।

যোগাযোগ করা হলে আজ মো. জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই মামলায় তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে দুজন হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। তবে মাহমুদুল আলম ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে তাঁদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। আর জবানবন্দি দিলেও মাহমুদুল আলম নিজেকে জড়িয়ে বক্তব্য দেননি। এসব যুক্তিতে জামিন চাওয়ার পর হাইকোর্ট ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আনোয়ারা শাহজাহান প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ইতিমধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর নোট দেওয়া হয়েছে।

গোলাম রব্বানি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ও একাত্তর টিভির বকশীগঞ্জ উপজেলার সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। গত ১৪ জুন রাতে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বকশীগঞ্জের পাটহাটি এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন তিনি। ঘটনার পরদিন দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় নিহত রব্বানির স্ত্রী মনিরা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় মাহমুদুল আলমকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ২০–২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামিসহ ইতিমধ্যে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।