পা দিয়ে আঘাত করতেই ভেঙে যাচ্ছে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব, ২ প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় এক ব্যক্তি পা দিয়ে আঘাত করতেই ভেঙে পড়ে স্ল্যাবছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রড কম ব্যবহারের কারণে পা দিয়ে জোরে আঘাত করতেই সেতুর স্ল্যাব ভেঙে পড়তে দেখা যায়। নিম্নমানের নির্মাণকাজের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এলজিইডির চিঠি অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজটি করছে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

২১ সেপ্টেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা। পরিদর্শনে দেখা যায়, সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাবের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের, যা নকশা ও স্পেসিফিকেশন–বহির্ভূত। একই সঙ্গে রেলিংয়ের রডের কাজও নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করেননি। এটি তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলার শামিল এবং সরকারি চাকরিবিধির পরিপন্থী। এ জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে কেন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না, তা আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে দেওয়া চিঠিতে নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী নির্মাণকাজের ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আগামী সাত দিনের মধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে বলা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশলীকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের মাধ্যমে নির্মাণকাজের ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করাতে এবং নকশা ও স্পেসিফিকেশন–বহির্ভূত কোনো কাজের বিল পরিশোধ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

এর আগে টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রাতের আঁধারে ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার রাতের ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ঘটনায় ঠিকাদার ও সেতুটির নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।