স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সমাজকে আরও কীভাবে সুন্দর করা যায়, পরিচ্ছন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। একসময় গ্রামে বিচারব্যবস্থা ছিল, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের লক্ষ্য একই রকম। আমরা নিজেরা যদি নিজের সমস্যা সমাধান করতে পারি, সমাজে অপরাধ অনেকটা কমে যাবে।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘দেশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ মূলমন্ত্রে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। এখন প্রতি মাসে সারা দেশে প্রতি থানায় ‘ওপেন হাউস ডে’ পালন করা হয়। যেখানে সাধারণ মানুষ পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাঁদের সমস্যা তুলে ধরেন।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক জানান, পুলিশের সব জেলা, রেলওয়ে, হাইওয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও মেট্রোপলিটন ইউনিটে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের চলমান কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ৫৪ হাজার ৭১৮টি কমিটিতে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৭০১ জন কমিউনিটি পুলিশিং সদস্য কাজ করছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিদায়ী কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, চাকরিকে ইবাদত মনে করে কোনো অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করেননি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো চাকরিজীবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যে আশীর্বাদ মাথার ওপরে ছিল, তা কখনোই ভুলব না। চাকরিটাকে ইবাদত মনে করে কখনো কোনো অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করিনি। একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ভালোভাবে চলতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে সাপোর্ট দিয়েছেন, সে জন্য তাঁকে আলাদাভাবে স্যালুট ও শ্রদ্ধা জানাই।’

কমিউনিটি পুলিশিং নিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে ইভ টিজিং, নারী নির্যাতন, যৌতুক, মাদকের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু আইন করে এসব অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এসব সামাজিক সমস্যা যদি সবাই মিলে প্রতিরোধ করি, তাহলেই এ অপরাধ থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ছুটির দিন হলেও আজই তাঁর চাকরির শেষ দিন। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আতিকুল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এবং মিরপুর মডেল থানার কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি দেওয়ান আব্দুল মান্নান প্রমুখ।

এ ছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২২–এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এসে শেষ হয়।