default-image

মনোয়ারার মতো আয়াত হোসেন ও সৈকতের মা-বাবারও এখন ছেলের বেঁচে থাকার প্রার্থনা। তাসফিরসহ নিউরোসার্জারি বিভাগে ছয়জন চিকিৎসাধীন। জুনায়েদ কায়সার ইমন নামের আরেকজন সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আয়াত ও সৈকত এসএসসি পরীক্ষার্থী। আয়াতের বাবা আবদুশ শুক্কুর সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। তিন ছেলের মধ্যে আয়াত দ্বিতীয়।

আয়াতের মা রাশেদা বেগম ছেলের শয্যাপাশে বসে আছেন। চিকিৎসকের কাছে কেবল ছেলের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। আয়াতের ডান হাত ও কলার বোন ভেঙে গেছে। তবে ব্রেন ভালো রয়েছে। অনেক দিন চিকিৎসা নিতে হবে বলে জানান চিকিৎসকেরা।

মা রাশেদা বলেন, ‘ছেলে সুস্থ হলেই হবে। আর কিছু লাগবে না। পরীক্ষা পরেও দিতে পারবে।’ আরেক পরীক্ষার্থী সৈকতের ডান পা ও ঊরু ভেঙে গেছে। মাথায়ও ব্যথা পেয়েছে। তাঁর স্বজনেরাও ছেলের সুস্থতা চান আগে।

এখানে চিকিৎসাধীন তানভীর হাসান হৃদয়, মাহিম ও গাড়িচালকের সহকারী তৌকির ইমনের অবস্থা তুলনামূলক ভালো বলে জানান নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, তাসফির ছাড়া অন্যরা ভালো আছে। তবে দীর্ঘ চিকিৎসা দরকার হবে। তাসফিরকে আইসিইউতে ভর্তি করানোর জন্য বলেছি। এ ছাড়া অন্যদের হাড় ভাঙাসহ অন্যান্য চিকিৎসা চলছে।

আহত এই তরুণেরা এখনো জানেন না, তাঁদের বন্ধু ও বড় ভাইদের অবস্থা। ঘটনাস্থলেই তাঁদের সঙ্গী ১১ জন মারা যান। রাতেই তাঁদের লাশ বাড়িতে পৌঁছায়। হতাহতরা চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজারের পূর্ব খন্দকিয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে গাড়িচালক ছাড়া অন্যরা স্থানীয় একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। গতকাল সকালে তাঁরা মাইক্রোবাসে মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনায় বেড়াতে যান। ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন