জয়া আহসানসহ অন্যদের রিট: ঘোড়ার মাংস বেচাকেনার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ
গাজীপুরের হায়দরাবাদ এলাকায় গত নভেম্বরের প্রথম দিকে বেআইনিভাবে ঘোড়া জবাই ও ঘোড়ার মাংসের বেআইনি বেচাকেনা–সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে দেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য রোধে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ৯০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে জব্দ করা ঘোড়া নিলাম বা অন্য কোনো উপায়ে হস্তান্তর রোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ওই তিন সচিবের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে অভয়ারণ্য-বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট ও অভিনেত্রী জয়া আহসান চলতি বছরের ১০ মে ওই রিট করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী সাকিব মাহবুব শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাজিদ হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ শুনানিতে ছিলেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি তুরলা কারখানায় অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য চক্রের সন্ধান ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে পাওয়া যায় বলে জানান রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী সাকিব মাহবুব। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া ও আটটি জবাই করা ঘোড়ার মরদেহের পাশাপাশি বিতরণ ও বিক্রির জন্য রাখা বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা প্রাণীগুলো অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল। অপুষ্টি, সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, টিউমার ও অন্যান্য গুরুতর রোগ ও আঘাতে প্রাণীগুলো ভুগছিল। এই মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাত করা ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এই মাংসকে গরুর মাংস নাম দিয়েও মানুষকে বিভ্রান্তও করা হচ্ছিল।
কর্তৃপক্ষ এসব কার্যক্রম তাৎক্ষণিক বন্ধের নির্দেশ ও তদারকি ব্যবস্থার কথা জানালেও তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি উল্লেখ করে আইনজীবী সাকিব মাহবুব বলেন, পরবর্তী সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত গাজীপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করে। ঘোড়ার অবৈধ মাংসের বাণিজ্যসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিট আবেদনকারীপক্ষ সরবরাহ করে। এ সত্ত্বেও অবৈধ এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বাজেয়াপ্ত করা অসুস্থ ওই ঘোড়াগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিলামে বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। ঘোড়ার মাংসের অবৈধ এই বাণিজ্য বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২৯ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় রিট আবেদনকারীপক্ষ। তবে ফলপ্রসূ কোনো সাড়া না পেয়ে ওই রিট করে তারা।
প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দেওয়া রুলে ঘোড়ার মাংস ও রোগাক্রান্ত পশুর অবৈধ জবাই, মাংসের প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।