৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মধ্যরাতে জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রী ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোট গণনা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে প্যানেল ও স্বতন্ত্র ভিপি, জিএস এবং এজিএস প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর মধ্যরাত রাত সাড়ে ১২টার পর ভোট গণনা শুরু হয়েছে।
রাত সাড়ে ১২টার পর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জকসুর ভোট গণনা শুরু হয়। প্রথমে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ভোট গণনা করা হয়। বিভাগটিতে ২৭৮টি ভোট পড়েছে।
মঙ্গলবার সকাল নয়টায় শুরু হয়ে বেলা তিনটা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ।
সব কেন্দ্রের ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স আনা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে। এরপর ভোট গণনা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বন্ধ করা হয়। সে সময় জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান জানিয়েছিলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ভোট গণনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশনার শহীদুল ইসলাম বলেছিলেন, দুটি মেশিনে দুই রকম ফলাফল দেওয়ায় ভোট গণনা বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই সমস্যার সমাধান করে রাত সাড়ে ১২টার পর আবার ভোট গণনা শুরু করা হয়।
নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়ছেন ৮ জন।