নূরউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘আজকে আমাদের সবার, দুরন্ত বিপ্লবের পরিবার, বন্ধুমহল ও দেশবাসীর প্রত্যাশা, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যথাযথ প্রক্রিয়ায় চলবে, কোনো রকম প্রভাব থাকবে না, কেউ মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হবে না এবং ন্যায়সংগত বিচার হবে৷’

‘সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দুরন্ত বিপ্লব ও বুয়েটের মেধাবী ছাত্র ফারদিন নূরের নির্মম হত্যার প্রতিবাদে’ সামাজিক সংগঠন নোঙর বাংলাদেশ, স্বাধীনতা উদ্যান সাংস্কৃতিক জোট এবং নিহত ব্যক্তিদের বন্ধুমহল যৌথভাবে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন আয়োজন করে৷ ফারদিন ও দুরন্ত বিপ্লবের পরিবারের সদস্যরাও এতে অংশ নেন৷

ফারদিনের বাবা কাজী নূরউদ্দিন বলেন, ‘আজ আমি যে এখানে দাঁড়িয়েছি, এই দিনটি আমার প্রত্যাশিত ছিল না৷ আমার ছেলেটা বাড়ি থেকে বেরিয়ে বুয়েটে পরীক্ষা শেষে পরদিন বাসায় ফিরে মায়ের সঙ্গে ভাত খাওয়ার কথা ছিল৷ সেই ছেলেটা মাঝপথে কীভাবে কার সঙ্গে জড়িয়ে কোথায় নিরুদ্দেশ হয়ে গেল, তার কোনো হদিস আমি পাইনি৷ নিখোঁজের পর ট্র্যাক করে কোথায় কী পাওয়া গেল, কিছুই আমরা জানতে চাই না৷’

বক্তব্যের সময় ফারদিনের বাবা কাঁদছিলেন৷ সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সন্তান হারানো পিতাকে যখন রাস্তায় দাঁড়াতে হয়, তাঁর মর্মবেদনা আপনারা অনুভব করবেন৷ এই ভেবে শঙ্কিত হবেন, আগামী দিনে আপনার সন্তান বা কোনো স্বজনকে হারাতে পারেন৷ ফারদিন আর কোনো দিন ফিরবে না৷ আমরা আর কোনো সন্তানকে হারাতে চাই না৷ আমরা আর এভাবে কাঁদতে চাই না৷ সন্তানদের নিরাপত্তা চাই৷’

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ বলেন, ‘কী কারণে মেধাবী বিতার্কিক, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বুয়েটের ছাত্র ফারদিন নূরকে খুন করে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা আমরা জানি না৷ সে বাংলাদেশের সম্পদ ছিল৷ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর স্বাধীনচেতা চরিত্রের দুরন্ত বিপ্লব কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন৷ তাঁকে হারানো আমাদের রাজনীতি ও তারুণ্যের জন্য বিশাল ক্ষতি৷ আমরা প্রতিটি হত্যার মতো এরও (দুরন্ত বিপ্লব ও ফারদিন হত্যা) বিচার চাই৷’

দুরন্ত বিপ্লবের খালাতো ভাই মোহাইমেন বয়ান বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদ ও জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনে দুরন্তের প্রেরণায় লড়াই-সংগ্রাম করেছি৷ সেই দুরন্ত আজ আমাদের মাঝে নেই৷ তাঁর এই অস্বাভাবিক চলে যাওয়াকে আমরা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারি না৷ যত দিন সঠিক তদন্ত না হবে, তত দিন এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলুক৷’

মানববন্ধনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়৷ সেখানে ৭ দফা দাবি জানানো হয়৷ এগুলো হলো বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দুরন্ত বিপ্লব ও ফারদিন নূরের খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; ডিজিটাল বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ত্রাসী-অপরাধী শনাক্ত করতে গোটা রাজধানীতে সিসিটিভি ক্যামেরা প্রযুক্তিকে আরও কার্যকর করা; সব নদীর উভয় তীরে খেয়াঘাট বা পারাপারের স্থানে রাতের অন্ধকার দূর করতে পর্যাপ্ত আলো-বাতি স্থাপনসহ নৌ পুলিশকে আরও সক্রিয় করা; দুরন্ত ও ফারদিনের পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ বা সহযোগিতা নিশ্চিত করা; বিভ্রান্তিকর তথ্য বা সংবাদ প্রকাশকারী গণমাধ্যম ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করা; আগামী প্রজন্মের স্বার্থে সব ধরনের মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করা ইত্যাদি।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী জামিল বক্তৃতা করেন।

৪ নভেম্বর ঢাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর ৭ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন নূরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷

অন্যদিকে ৭ নভেম্বর থেকে নিখোঁজ দুরন্ত বিপ্লবের মরদেহ ১২ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।