বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে একটি সেতুবন্ধ শিল্পকলা: প্রণয় ভার্মা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে শিল্পকলা সব সময়ই একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেছেন, ‘আমি মনে করি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান; যেখানে শিল্পকলা একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে, যা আমাদের দুই দেশের জনগণকে একত্র করে, হৃদয়ের বন্ধন তৈরি করে।’
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরার গ্যালারি কায়ায় একটি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রণয় ভার্মা। ‘ক্রসরোড...নট আ প্রজেক্ট’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের সমকালীন ১১ জন শিল্পীর ৪৬টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে। এই শিল্পীরা হলেন আবদুস সাত্তার তৌফিক, অসীম হালদার সাগর, আজহারুল ইসলাম চঞ্চল, আজমীর হোসেন, মনজুর রশীদ, নবরাজ রায়, শাহানূর মামুন, শহীদ কাজী, সোহাগ পারভেজ, সুশান্ত কুমার অধিকারী ও তেজস হালদার জস। সমকালীন শিল্পীদের ভাবনা তুলে ধরতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে বলে প্রদর্শনীর আয়োজক গ্যালারি কায়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিকেলে গ্যালারি কায়ায় এসে শুরুতে পুরো প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। প্রদর্শনী নিয়ে তিনি বলেন, এখানে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দৈনন্দিন জীবনের সরলতা থেকে শুরু করে গ্রামীণ প্রাকৃতিক দৃশ্যের শান্ত সৌন্দর্য—সবকিছুই তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে যে সুষম সম্পর্ক, তা–ও এখানে উঠে এসেছে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘এটি সত্যিই এক অসাধারণ শিল্পকর্মের সংগ্রহ, যেখানে প্রত্যেক শিল্পী তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিতে নিজের ভাবনা ও অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে একটি সাধারণ ভাষাও এখানে রয়েছে, যা আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া ও ঐক্য সৃষ্টি করে।’
পরে ঘণ্টা বাজিয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ভারতের হাইকমিশনার। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে শিল্প অনেক সময় নীরবে পটভূমিতে থাকলেও সীমানা অতিক্রম করে সংস্কৃতির মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ স্থাপন করে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আমাদের অভিন্ন ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। পাশাপাশি শিল্প সব সময়ই আমাদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করেছে।’ আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরও বেশি শিল্প বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে, সহায়তা দিতে এবং বাস্তবায়নে সাহায্য করতে প্রস্তুত রয়েছি। আমরা শিল্পীদের সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে যেকোনো উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী।’
প্রদর্শনী নিয়ে উপস্থিত দর্শনার্থীদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন গ্যালারি কায়ার পরিচালক গৌতম চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে ১৯৭০ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের সামনের কাতারের একদল শিল্পীকে একত্র করা হয়েছে। এই প্রজন্মের শিল্পীরা উল্লেখযোগ্যভাবে বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পজগৎকে তুলে ধরেছেন। বর্তমান শিল্পজগতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এই শিল্পীরা সময়ের চাহিদাকে বুঝতে পেরেছেন, সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছেন। শিল্পজগৎ, ভাবনা ও দৃশ্য ভাষার যে রূপান্তর ঘটছে, সেই বৈচিত্র্যময় রূপান্তরের প্রতিনিধিত্বও তাঁরা করেন।
প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলবে। ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।