রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির মামলায় সোহেল রানাসহ ৮ জনের রায় পেছাল

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে পড়লে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়ফাইল ছবি

সাভারের রানা প্লাজা ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আজ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব।

আসামিদের মধ্যে সোহেল রানা এই মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় কারাগারে আছেন। আজ তাঁকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক। অন্য আসামিরা জামিনে আছেন; আজ তাঁরাও আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।

মামলার বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগমের মৃত্যু হওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আহত হন আরও বহু শ্রমিক।

ঘটনার পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

ভবনটি সোহেল রানার বাবার নামে থাকায় প্রাথমিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়নি। তবে তদন্তে ভবনটির নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনায় সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাঁকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়

২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্ত শেষে সোহেল রানা, তাঁর মা–বাবাসহ ১৮ জনকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে মামলা থেকে বাদ দিয়ে ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মা–বাবার মৃত্যুর পর তাঁদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘রানা প্লাজা’ নামে ছয়তলা একটি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল সাভার পৌরসভা নকশা অনুমোদন করে। পরে ২০০৮ সালের ২২ জানুয়ারি ওই ভবনের ওপর আরও চারতলা নির্মাণের অনুমোদন চাওয়া হয়।

এ ছাড়া শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলা হলেও পরে ভবনটিতে পাঁচটি পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। ভবনটির নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমোদনে আসামিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন সাক্ষ্য দেন।