গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির বিবৃতি
গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশের নিন্দা
ফিলিস্তিনের গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে (আইএসএফ) বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বা ইচ্ছার নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘খুশি করার এই প্রকল্প’ থেকে অবিলম্বে সরকারকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানায়। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই বলে তারা মনে করে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর পরিবাগে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সভায় গৃহীত এক নিন্দা প্রস্তাবে এসব কথা বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
সভায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ, আকরাম খান, মোশাহিদা সুলতানা, হারুন-অর-রশিদ, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সজীব তানভীর, সীমা দত্ত, রাফিকুজ্জামান ফরিদ, ইকবাল কবীর, ছায়েদুল হক নিশান, শিমুল কুম্ভকার, রাফসান আহমেদ, জাবির আহমেদ জুবেল উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গাজায় গণহত্যাকারী ইসরায়েল রাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখার উদ্দেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর ঘোষণা দিয়েছেন, সেই বাহিনীতে বাংলাদেশের যোগদানের পরিকল্পনা বা ইচ্ছার সংবাদ সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের এই পরিকল্পনা বা ইচ্ছার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। কমিটি মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো অধিকারই নেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার। একই সঙ্গে এই পরিকল্পনা বা ইচ্ছা প্রকাশ সরাসরি গাজার শহীদ কিংবা এ দেশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি।
কমিটি ইরানের গণবিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছে, এ আন্দোলন দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কমিটি আন্দোলনে ইরানের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দমন–পীড়নের নিন্দা জানাচ্ছে। ইরানের এ পরিস্থিতির সুযোগে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা নিজেদের সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে নিজেদের করায়ত্ত ও সেখানকার তেলসম্পদ দখল করতে চাইছে বলে মনে করেছে তারা।
ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিটি মনে করে নির্বাচনের আগেও এ ধরনের হামলা বন্ধ করতে সরকারের ব্যর্থতা পরিষ্কারভাবেই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নির্বাচনে ভোটদানের ক্ষেত্রে ভীতির পরিবেশ তৈরি করবে। ফলে সরকারকে অবশ্যই এ ধরনের হামলা বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত কিছু কিছু ছাত্রসংসদ সদস্য ‘মাস্তানি’ করছে, অভিযোগ করে এর নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এসব বন্ধের আহ্বান জানায় কমিটি। পাশাপাশি ৬৪৪ দিন ধরে বিনা বিচারে কারাগারে আটক নিরীহ বম নাগরিকদের মুক্তিরও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
২১ জানুয়ারি গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য জনগণের ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।