জনবান্ধব উদ্যোগ আছে, ঘাটতি সমন্বিত চিন্তার

‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন—একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশফাইল ছবি

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রমে জনবান্ধব কিছু উদ্যোগের আভাস থাকলেও এতে ‘নীতিগত গভীরতা, স্বচ্ছতা ও সমন্বিত চিন্তার ঘাটতি’ আছে বলে উল্লেখ করেছেন এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। ‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন—একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এ কথা বলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

‘বিএনপি সরকারের ১০০ দিন—একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় এ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় এ আলোচনা হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয়। এরপর প্রায় ১০০ দিন পার করা উপলক্ষে আলোচনাটির আয়োজক ছিল সমাজ গবেষণাকেন্দ্র।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ অত্যন্ত বিস্তৃত ছিল উল্লেখ করে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এতে ৪১৫টি কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে তাঁর মতে, এত বিপুল পরিমাণ কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর মধ্যে সমন্বিত কাঠামো ও সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার নির্ধারণের ঘাটতি রয়েছে।

‘আয়বৈষম্য বাড়লেও কমানোর নির্দিষ্ট রূপরেখা নেই’

দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, দেশে আয়বৈষম্য দ্রুত বেড়েছে। কিন্তু বিএনপির ইশতেহারে বৈষম্য কমানোর কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বা রূপরেখা নেই। যদিও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মজুরি সমন্বয়, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, ‘গণমুখী হওয়ার একটা প্রয়াস আছে, কিন্তু সেই প্রয়াসগুলো গভীর চিন্তাপ্রসূত বা সামগ্রিক উপলব্ধিনির্ভর বলে মনে হয় না।’

সুশাসনের প্রশ্নে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে সংস্কার ও জবাবদিহির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, ক্ষমতায় এসে তার বাস্তব প্রতিফলন এখনো স্পষ্ট নয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ, উচ্চকক্ষ গঠন ও আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সরকারের অবস্থানেও দ্বিধা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

‘১০টি অগ্রাধিকার দরকার’

পরিবেশ ও নদীনীতির ক্ষেত্রেও সরকারের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। খাল খনন ও পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী ও পরিবেশকে সমন্বিতভাবে না দেখে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নজরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বড় প্রকল্পগুলোয় স্বচ্ছতা ও জন–আলোচনার ঘাটতি রয়েছে।

বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রেও সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই গবেষক। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে জনগণকে আস্থায় নেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, অনেক বছর পর দেশে আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ যাত্রা টিকিয়ে রাখতে সরকারকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ হতে হবে।

সামগ্রিক বিষয়ে আগামী দিনে সরকারের করণীয় হিসেবে ১০টি অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। এগুলো হলো অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, সুশাসন, আনুপাতিক নির্বাচন, পরিবেশ সুরক্ষা, গ্রাম পরিষদ গঠন, বিকেন্দ্রীকরণ, সামাজিক সংহতি, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ, সর্বজনীন সামরিক শিক্ষা এবং নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রগুলোয় সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

‘বিভাজন নয়, সংহতি হবে এই সরকারের মূল দর্শন’

আলোচনায় যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন থেকে অনলাইনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বক্তব্যে তিনি বলেন, সমালোচকেরা যখন বিএনপির ১০০ দিনের মূল্যায়ন করছেন, তখন এই প্রশ্ন অনুপস্থিত থাকছে যে সরকার কোন ‘বেসলাইন’ (ভিত্তিরেখা) থেকে যাত্রা শুরু করেছে—যেখানে ঋণের পাহাড়, ভঙ্গুর জ্বালানিব্যবস্থা, শূন্য রিজার্ভ এবং প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতি ছিল উত্তরাধিকার।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, গত দেড় দশকের লুটপাট ও পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতির ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি সরকার যাত্রা শুরু করেছে। সেই বাস্তবতায় সরকার কেতাবি অর্থনীতির পথে না হেঁটে সৃজনশীল পদ্ধতিতে এগোচ্ছে—ফ্যামিলি কার্ডে দারিদ্র্য স্কোরিং পদ্ধতি, কৃষকের ঋণ মওকুফ এবং সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা বলয় গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

অর্থনীতির কাঠামোগত সংস্কারেও সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। পাশাপাশি দেশের জ্বালানি খাতে পাঁচটি সংস্কারের রূপরেখার কথা উপস্থাপন করেন তিনি। একই সঙ্গে কর ফাঁকি রোধে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন এবং পুঁজিবাজারকে সক্রিয় করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের কথাও বলেন তিনি। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে হাওর-বাঁওড়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিভাজন নয়, সংহতিই হবে এই সরকারের মূল দর্শন।

‘দলীয়করণ থাকলে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দুর্বল হবে’

আলোচনায় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মসূচি এখনো মূলত ঘোষণাপত্রেই সীমাবদ্ধ। বাস্তব নীতিনির্ধারণ ও তার কার্যকর প্রয়োগ ছাড়া সরকারের প্রকৃত অভিপ্রায় বোঝা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক সংকট কেবল প্রবৃদ্ধির নয়; বরং ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাংকনির্ভর উদারনৈতিক অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে প্রবৃদ্ধি এলেও দেশে সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত হয়নি বলে উল্লেখ করেন রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচি বৈষম্যের উপসর্গ সামাল দিতে পারে, কিন্তু বৈষম্যের মূল কাঠামো ভাঙতে পারে না। সে জন্য প্রয়োজন উৎপাদন ও আয়ের পর্যায়ে পুনর্বণ্টনমূলক নীতি, কার্যকর করব্যবস্থা, ঋণখেলাপি সংস্কৃতির অবসান এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও দুর্বল হবে।

‘জনগণের মতামতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে’

আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর মানুষের মধ্যে যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল—একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার—তার বাস্তব প্রতিফলন এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, উন্নয়ন দর্শন, মেগা প্রকল্পনির্ভরতা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের বাণিজ্যিকীকরণ, নীতিনির্ধারণে গোপনীয়তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভরশীলতার মতো পুরোনো ধারাবাহিকতা এখনো বহাল রয়েছে।

জনগণের অংশগ্রহণ ও ‘স্বচ্ছতা ছাড়া’ নেওয়া বড় বড় সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রত্যাশাকে দুর্বল করে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। একই সঙ্গে বিচারহীনতা, সামাজিক বৈষম্য ও বিদেশি স্বার্থনির্ভর চুক্তির ঝুঁকির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি সত্যিই পরিবর্তনের পথে যেতে চায়, তবে জনগণের মতামত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

‘আন্তরিকতার ইঙ্গিত রয়েছে’

মাত্র তিন মাসের কার্যক্রম দেখে একটি সরকারের সামগ্রিক লক্ষ্য ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করা সময়োচিত নয় বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানিসংকট, বিশেষ করে গঙ্গা ও তিস্তার পানিপ্রবাহে ভারতের একতরফা আচরণের বাস্তবতায় পদ্মা বা তিস্তাকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোকে কেবল রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, টিকে থাকার কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে সরকারের ঘোষিত সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে আন্তরিকতার ইঙ্গিত রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ১০০ দিন খুব দীর্ঘ সময় না হলেও নতুন সরকারের নীতি, অগ্রাধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রাথমিক দিকনির্দেশনা বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সরকারের কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার নিয়ে গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

‘বিএনপিকে সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে’

আলোচনায় বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, দশকের পর দশক ধরে চলে আসা ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ (স্বজনতোষী পুঁজিবাদ) ও লুটপাটের অর্থনীতির চক্র ভাঙতে হলে ব্যাংকিং ও কর খাতে সংগঠিত ও দৃশ্যমান সংস্কার এখনই জরুরি, কিন্তু বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সেই উদ্যোগ যথেষ্ট স্পষ্ট নয়।

ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষার যে কর্মসূচিগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সাফল্য চান সেলিম রায়হান। তবে তিনি দুটি বড় শঙ্কার কথা জানান। এগুলো হলো টেকসই অর্থায়নের অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকি।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈষম্য হ্রাস, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা বলেন, মূলধারার অর্থনৈতিক আলোচনায় শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি ক্রমেই অনুপস্থিত হয়ে যাচ্ছে, অথচ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে শ্রম আয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে যে ‘অস্ত্র’ তৈরি করেছে প্রতিপক্ষকে দমনের জন্য, সেই অস্ত্র বারবার নিজেদের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সমাজ গবেষণাকেন্দ্রের সভাপতি তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই দুষ্টচক্র থেকে বেরোতে হলে বিএনপিকে সত্যিকারের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, নইলে জনগণের বিশ্বাস ধরে রাখা কঠিন হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা।