মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুটপাট মানুষের বাঁচার অধিকারের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণ: গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি
রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং সরকারি ভ্যাকসিন (টিকা) ও স্বাস্থ্যসামগ্রী ধ্বংসের বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলেছে, দেশজুড়ে যখন হামের সংক্রমণে একের পর এক শিশুর প্রাণহানি ঘটছে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক মহামারি রূপ ধারণ করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র এভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া কেবল একটি ভবনে হামলা নয়, এটি পুরো গণস্বাস্থ্যব্যবস্থা ও দেশের সাধারণ মানুষের বাঁচার অধিকারের ওপর এক সন্ত্রাসী আক্রমণ।
আজ শনিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। কমিটির পক্ষে ‘হাম ও ডেঙ্গু মহামারির মধ্যে মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর ও লুটপাট স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর সন্ত্রাস এবং পুলিশের উপস্থিতিতে জমি দখলের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ!’ শীর্ষক বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন এর সদস্য সজীব তানভীর ও রাফিকুজ্জামান ফরিদ।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ও হাত-পা বেঁধে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অর্থ লুট করে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অধিকার কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ২০০-২৫০ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল নির্বিঘ্নে দীর্ঘ সময় ধরে ভবনে ভাঙচুর, জেনারেটর, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট এবং হামের টিকাসহ সরকারি টিকাদান নথিপত্র ধূলিসাৎ করে দেয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উঠে আসা এবং ‘সমমনা দোকানদার সমিতির’ নামে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া স্পষ্ট প্রমাণ করে, এটি রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত এক সুপরিকল্পিত জমি দখলের তাণ্ডব। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই সন্ত্রাসী দখলদারত্ব সম্পন্ন হয়েছে, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকাঠামো ও বিচারহীনতার এক চরম বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যখন সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিশুরা মহামারি ও সংক্রামক ব্যাধিতে চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে, তখন মাফিয়া, দখলদার গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের স্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ধ্বংস করা কোনো সভ্য সমাজ বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মেনে নেওয়া যায় না। অধিকার কমিটি স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চায়, জনগণের স্বাস্থ্যরক্ষা ও চিকিৎসার অধিকারের ওপর যেকোনো হামলা আমরা রুখে দাঁড়াব। অবিলম্বে এই জমি দখলদারদের বিচার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করার দাবিতে সমাজের সব বিবেকবান মানুষকে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।’
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির পক্ষ থেকে বিবৃতিতে চারটি দাবি জানানো হয়েছে। এগুলো হলো এজাহারভুক্ত বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অংশগ্রহণকারী সন্ত্রাসী ডাকাতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করা; ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করা, সন্ত্রাসীদের সুযোগ করে দেওয়া সংশ্লিষ্ট শাহ আলী থানার ওসি ও দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; দখল করা ১০ কাঠা জমি অবিলম্বে উদ্ধার করে সরকারি ও নিজস্ব তহবিলে দ্রুততম সময়ে রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ করা, ক্ষতিগ্রস্ত টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে গরিব মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা চালু করা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে ভূমিদস্যুতা ও মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান দখলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করা।