ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি আরও বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার আমি একাই কমলাপুর থেকে রেল মন্ত্রণালয়ের লং মার্চ করব।’ এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

গত মাসে রেলের টিকিট কিনতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার পর ঈদুল আজহার আগে ৭ জুলাই থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে অনশন শুরু করেন মহিউদ্দিন। ১০ জুলাই ঈদের দিনও তিনি স্টেশনে অবস্থানে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘টিকিট কাটতে আসা যাত্রীদের হয়রানির কথা বলে আমাকে টিকিট কাউন্টার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমিও চাই না আন্দোলন করতে এসে আমার কারণে কারও কষ্ট হোক।’

শুরুতে অনেকে মহিউদ্দিনের সঙ্গে ছিলেন। তাঁরা কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে অনেকেই আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাঁদের মামলার হুমকি দিয়েছে। আমার সঙ্গে মেয়েরাও আন্দোলন করেছে। টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িতরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে ধর, ধর বলে হুমকি দিয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমি একাই আন্দোলন করে যাচ্ছি। আন্দোলন করতে এসে তাঁরা যেন হয়রানি ও মামলার শিকার না হন।’

রেলের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে মানুষর ভালোবাসাও পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আমার আন্দোলন দেশ বা রাষ্ট্রবিরোধী নয়। মানুষের হয়রানির বন্ধে আমার এই আন্দোলন। তাই অনেক রেলওয়ে কর্মকর্তারা গোপনে আমার আন্দোলনের প্রশংসা করছেন। অনেক যাত্রীরা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। অনেকে খাবার নিয়ে আসছেন।’

গত এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকায়নের দাবিতে অনশন করেন মহিউদ্দিন রনি। তিনি বলেন,‘পকেটের টাকা খরচ করে আন্দোলন করে যাচ্ছি। সকাল ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত আমি স্টেশনে থাকছি। বাকি সময় ক্যাম্পাসে গিয়ে বিশ্রাম নেই। আন্দোলনের সময় নিজের টাকা দিয়ে খাবার কিনে খাই। যাতে কেউ এই আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে না পারেন।’

আন্দোলন করায় অনেকেই বাম-ডান এমনকি ছাত্র শিবির বানানোর চেষ্টা করেছে অভিযোগ করে মহিউদ্দিন রনি বলেন, ‘আমি ঢাবির জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী। সেখানে গেলেই আমার রাজনৈতিক পরিচয় জানা যাবে। অযথা আমাকে বিতর্কিত করে এই আন্দোলন থেকে আমাকে সরানো যাবে না।’

গাজীপুরের একটি কলেজ থেকে একদল শিক্ষার্থী সোমবার মহিউদ্দিনের সঙ্গে এই আন্দোলনের একাত্মতা জানাতে আসেন। তাঁরা স্টেশনের পাশেই মহিউদ্দিনের সঙ্গে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রেলওয়ে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ জানান। পরে তাঁরা চলে যান।

মহিউদ্দিন বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেকেই এসে আমার সঙ্গে দেখা করছে। আন্দোলনে শরিক হচ্ছেন। এতে আমার মনে সাহস বাড়ছে, যে আমি একা নই। আমার সঙ্গে দেশবাসী আছেন। দাবি আদায় না হলে প্রয়োজনে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন