সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্রথম দিন ভোট পড়েছে ১ হাজার ৭৭১টি
দেশের আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে বুধবার প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রথম দিনে ১ হাজার ৭৭১টি ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এর আগে গত ২ এপ্রিল এক নোটিশে সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
সমিতির নির্বাচন ঘিরে বুধবার সকাল থেকে সমিতি প্রাঙ্গণে প্রার্থীর সমর্থক আইনজীবীদের ভিড় দেখা যায়। নীল, সবুজ ও লাল-সবুজ ক্যাপ পরিহিত সমর্থকদের লাইনে দাঁড়িয়ে আগত ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা যায়। তাঁরা ভোটারদের হাতে নিজ নিজ প্যানেল ও প্রার্থীদের ব্যালট নম্বরসংবলিত কার্ডও তুলে দেন।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রথম দিনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শেষ দিকে বৃষ্টির কারণে আধা ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়।
এক বছর মেয়াদে সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এই নির্বাচন হয়ে থাকে। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহসভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক ও সাতজন সদস্য। এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী হয়েছেন।
সমিতির এই নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হয়। তবে দৃশ্যত রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের থেকে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেলের আদলে নির্বাচন হয়ে থাকে। বিগত সময়ে সমিতির নির্বাচনে বরাবরই বিএনপিপন্থী (নীল হিসেবে পরিচিত) এবং আওয়ামী লীগপন্থী (সাদা হিসেবে পরিচিত) আইনজীবী প্যানেলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।
অবশ্য গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হয়। সেখানে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন ওই সভায় উপস্থিত তিনজন আইনজীবী।
সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে লড়তে পারছেন না। তবে বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত নীল প্যানেল, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন আইনজীবীদের সবুজ প্যানেল (আইনজীবী ঐক্য প্যানেল) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স মনোনীত প্যানেলের (লাল-সবুজ প্যানেল) প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
নীল ও সবুজ প্যানেল থেকে ১৪টি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দিয়েছে। এই তিন প্যানেলের বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯৭। ১৪টি পদের বিপরীতে এবারের নির্বাচনে ৪০ জন প্রার্থী হয়েছেন।