ভোটের পরেও ১০ দিন সেনাবাহিনী রাখার দাবি সংখ্যালঘু আইনজীবীদের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেও অন্তত ১০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাইনরিটি লইয়ার্স ইউনিটি। দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুসহ সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি।
আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় দেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আইনজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোটটি।
সমাবেশে বক্তারা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ, জমি দখল, চাঁদাবাজি, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ জানান। সমাবেশ শেষে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও এ বিষয়ে জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে জোটের নেতারা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের সংখ্যানুপাতিক হারে সম-অধিকার নিশ্চিত করা এবং জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা।
অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অজুহাতে বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগকারীদের আইনের আওতায় আনা; আসন্ন নির্বাচনে প্রচার শুরুর দিন থেকে ভোট–পরবর্তী ন্যূনতম ১০ দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সবার জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ কারাবন্দী সবার ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া।
গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের আগের চার দিন টানা সারা দেশে নিবিড় টহল চালাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভোটের পরও দুই দিন থাকবে পাহারা। সব মিলিয়ে সাত দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতিবাদ সমাবেশে মাইনোরিটি লইয়ার্স ইউনিটির আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জে কে পাল বলেন, দেশে আইনের শাসন আছে বলে মনে হয় না। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, ধর্ম অবমাননার অজুহাতে বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হচ্ছে। জমি ও মন্দির দখল হচ্ছে, জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে।
জে কে পাল বলেন, সব ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেলেও রাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সরকার নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ, যা খুবই হতাশাজনক।
সংগঠনের সদস্যসচিব সুমন কুমার রায় বলেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ডে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই অরাজক অবস্থার পরিবর্তন না হলে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ভোট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায় ও মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, হিন্দু লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস, আইনজীবী প্রহ্লাদ দেবনাথ, জিতেন্দ্র চন্দ্র বর্মন, তপন চক্রবর্তী প্রমুখ।