চাঁদাবাজ–অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা করে বিশেষ অভিযানের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডিএমপির সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ বুধবার ডিএমপির সদর দপ্তরের তৃতীয় তলার সম্মেলন কক্ষেছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শিগগিরই দেশব্যাপী, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে এ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সভা শেষে ডিএমপি সদর দপ্তরের তৃতীয় তলার সম্মেলনকক্ষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে পুলিশকে ‘নির্মোহ’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতের একটি স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এখন প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিনির্ভর নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ আইনানুগভাবে চলবে এবং কোনো ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারী নির্দেশ পালন করবে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির সঙ্গে বিভাগ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনগণ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারে।

‘চেইন অব কমান্ড’ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বস্বীকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করা ঠিক হবে না।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয়ে ‘চেইন অব কমান্ড’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা যেন ঊর্ধ্বতনকে ডিঙিয়ে সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করেন, এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে মন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার বা আইজিপি যেকোনো স্তরে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিচ থেকে ওপরের যোগাযোগে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে, কিন্তু ওপর থেকে প্রয়োজনে যেকোনো পর্যায়ে যোগাযোগ করা নিয়মসিদ্ধ, এ বার্তা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

যানজট নিয়ে বিশেষ সেল

ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বড় সমস্যা। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারকে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এক সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে নন-মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ, সেসব ভিআইপি ও প্রধান সড়কেও এসব যান চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থেকে এয়ারপোর্ট সড়ক হয়ে সচিবালয়মুখী ভিআইপি সড়কে এসব যান চলাচল সীমিত করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্য সড়কেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, যানজটের পেছনে নাগরিকদের অসচেতন আচরণও দায়ী। অনেকেই ট্রাফিক সিগন্যাল মানেন না, বাঁ লেন খালি রাখার নিয়ম অনুসরণ করেন না। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সবার সহযোগিতা পেলে যানজট সমস্যার অনেকাংশে সমাধান সম্ভব।