ফেসবুক মেসেঞ্জারে কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মেফতাহুল মারুফ নামের এক ছাত্রকে পুলিশে দেন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন। মারুফ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

পরদিন দুপুরে মেফতাহুলকে থানা থেকে মুক্ত করে ফেরার পথে জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সমাধিসৌধের সামনে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সালেহউদ্দিন সিফাত ও আহনাফ সাইয়্যেদ খানের ওপর হামলা করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। হামলার শিকার সালেহউদ্দিন ও আহনাফ স্টুডেন্টস অ্যাগেইনস্ট টর্চার (স্যাট) নামের একটি মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। হামলায় আহত হয়ে দুজনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

আজ দুপুরে ডুজা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুজনের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রলীগের ছয় কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন তানজিল তুষার, হেদায়েত উল্লাহ, ইত্তেজা হোসেন ওরফে রাকিব, আবদুল্লাহ আল মাসুরুর ওরফে রুদ্র, সুমন আলী ও রোকনুজ্জামান রোকন। ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হুসাইনসহ অন্য নেতা-কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ কর্মীদের পক্ষ থেকে ক্ষমা চান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইত্তেজা হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এক বন্ধুকে মারধর করা হচ্ছে—এমন মিস–ইনফরমেশন (ভুল তথ্য) পেয়ে আমরা সেখানে (জাতীয় কবির সমাধিসৌধের সামনে) যাই এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তাঁদের আঘাত করে বসি। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করিনি। এর দায় সম্পূর্ণ আমাদের, ছাত্রলীগের নয়। ছাত্রলীগ থেকে আমাদের এমন কোনো আদেশ করা হয়নি, আমরা সেখানে গিয়েছিলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে।’

এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হুসাইন বলেন, ‘এটি একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল। তাঁরা (ছাত্রলীগ কর্মী) তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। আশা করছি, ভবিষ্যতে তাঁরাসহ কোনো ছাত্রলীগ কর্মী ক্যাম্পাসের কোনো শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করবে না। আমরা ক্যাম্পাসে সব শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ ও সহাবস্থান চাই।’

স্যাটের প্রতিনিধি আনাস ইবনে মুনির বলেন, ‘সালেহউদ্দিন সিফাত ও আহনাফ সাইয়্যেদ খানের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁদের দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে এমন কিছু না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমরা মামলা থেকে বিরত থাকছি।’