সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দুই দিনের ভোট গ্রহণ শেষ, ফলের অপেক্ষা
দেশের আইনজীবীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন ভোট গণনা শুরু ও ফলাফল ঘোষণার পালা।
গত ২ এপ্রিল এক নোটিশে সমিতির দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের (২০২৬–২৭) তারিখ ঘোষণা করা হয়। গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে মাঝখানে ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়। এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী সন্ধ্যা সাতটায় প্রথম আলোকে জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ২ দিনে ৪ হাজার ৪৮ ভোটার ভোট দিয়েছেন। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে রাতেই ভোট গণনা শুরু হবে। ফলাফল রাত ১২টা নাগাদ প্রকাশ করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এক বছর মেয়াদের এ সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন হয়ে থাকে। পদগুলো হলো একজন সভাপতি, দুজন সহসভাপতি, একজন সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, দুজন সহসম্পাদক ও সাতজন সদস্য। এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী হয়েছেন।
সমিতির এ নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হয়। তবে দৃশ্যত রাজনৈতিক দলের সমর্থক আইনজীবীদের থেকে মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে প্যানেলের আদলে নির্বাচন হয়ে থাকে। বিগত সময়ে সমিতির নির্বাচনে বরাবরই বিএনপিপন্থী (নীল হিসেবে পরিচিত) ও আওয়ামী লীগপন্থী (সাদা হিসেবে পরিচিত) আইনজীবী প্যানেলের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো।
অবশ্য ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) হয়। সেখানে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে লড়তে পারছেন না। তবে বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল), জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (সবুজ প্যানেল) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স মনোনীত প্যানেলের (লাল-সবুজ প্যানেল) প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নীল ও সবুজ প্যানেল থেকে ১৪টি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। লাল-সবুজ প্যানেল ছয়টি পদে প্রার্থী দিয়েছে। এ তিন প্যানেলের বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
নীল প্যানেলের প্রার্থী যাঁরা
বিএনপি–সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল) থেকে সভাপতি পদে এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহসভাপতি দুটি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, সহসম্পাদকের দুটি পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল নির্বাচনে অংশ নেন। সাতটি সদস্য পদে এ কে এম আজাদ হোসেন, এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী প্রার্থী হয়েছেন।
সবুজ প্যানেলের প্রার্থী যাঁরা
জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে সভাপতি পদে আবদুল বাতেন, সহসভাপতির দুটি পদে মো. আবদুল হক ও মইন উদ্দিন ফারুকী, সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার, কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম জাহাঙ্গীর আলম, সহসম্পাদকের দুটি পদে মো. তারিকুল ইসলাম ও যোবায়ের আহমদ ভুঁইয়া নির্বাচনে অংশ নেন। সদস্য সাতটি পদে আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মাহমুদুল হাসান, মো. ফয়েজউল্লাহ, মো. জুবায়ের তায়েব ও মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন লিংকন প্রার্থী হন।
ছয়টি পদে প্রার্থী দিয়েছে লাল–সবুজ প্যানেল
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল ল ইয়ার্স অ্যালায়েন্স মনোনীত প্যানেল (লাল-সবুজ প্যানেল) থেকে সম্পাদকসহ ছয়টি পদে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন, সম্পাদক পদে এস এম আজমল হোসেন, সহসম্পাদক পদে মোস্তফা আসগর শরিফী এবং সদস্য পদে আমিনা আক্তার, কাজী আকবর আলী, মো. বন–ই–আমিন ও মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।
এ ছাড়া তিন প্যানেলের বাইরে বিভিন্ন পদে আরও ছয়জন প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে মো. ইউনুছ আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভুইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান এবং সদস্য পদে তপন কুমার দাস রয়েছেন।