কিডনির রোগ প্রতিরোধে কমিউনিটি ক্লিনিককে সম্পৃক্ত করার আহ্বান

কিডনিরপ্রতীকী ছবি

বর্তমানে প্রতি সাতজনের একজন কিডনির রোগে আক্রান্ত। এক দশক আগে প্রতি ৯ জনের ১ জন কিডনির রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির কারণে কিডনির রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বায়ুদূষণ, তাপজনিত চাপ (হিট স্ট্রেস), পানিশূন্যতা এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবের মতো পরিবেশগত উপাদানও এই রোগ বৃদ্ধির জন্য দায়ী। প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নিলে ৪০ শতাংশ কিডনি রোগ নিয়াময় সম্ভব। এ জন্য দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে এ রোগের চিকিৎসায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

এসব কথা উঠে এসেছে ‘বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬’  উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনায় সভায়। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এবারের কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে’।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। তিনি বলেন, কিডনির রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে।

অধ্যাপক এ কে আজাদ বলেন, ‘মসজিদের ইমামকে দিয়ে খুতবায় সচেতনতা বার্তাগুলো ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এটি নিয়ে আমরা একটি গবেষণা করেছি। পাঁচ বছর ধরে গবেষণাটি চলে। সেখানে দেখা গেছে এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতা ৪৫ শতাংশ কমিয়ে ফেলা যায়।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয় কিডনির রোগ স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান।

রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘মেয়েরা সবচেয়ে বেশি সুবিধাবঞ্চিত থাকে। দেখা যায় বেশির ভাগ ডায়ালাইসিস রোগী নারী। তারা এমন অবস্থায় আসে, যখন ডায়ালাইসিস ছাড়া আর উপায় থাকে না। কারণ, কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসাটা (প্রাথমিক অবস্থায়) পায় না। আর পরিবার তো তাদের আনে না।’

কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক হারুন আর রশিদ আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে প্রায় সাত কোটির বেশি মানুষ আছে। এই পর্যায়ে ব্যবস্থা নিলে ৪০ শতাংশ কিডনির রোগ নিরাময় সম্ভব। মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ পঞ্চম স্তরের রোগী।

হারুন আর রশিদ আরও বলেন, এই রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। উন্নত বিশ্বে এই রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। সরকার যেটা করতে চাচ্ছে ই–হেলথ, এর পরিবর্তে সরকারের করা উচিত ফ্রি–হেলথ। অর্থাৎ ডায়ালাইসিস রোগীদের জন্য ফ্রি ডায়ালাইসিস করানো।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনী ফেরদৌস রশীদ। সভার শেষে অধ্যাপক ডা. মুহিবুর রহমান উপস্থিত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আলোচনার সভার আগে বেলা সাড়ে ১১টায় কিডনি ফাউন্ডেশন থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কিডনি ফাউন্ডেশন থেকে বেরিয়ে মিরপুর-১–এর সনি সিনেমা হল এলাকা থেকে ঘুরে হার্ট ফাউন্ডেশন হয়ে আবার কিডনি ফাউন্ডেশনে এসে শেষ হয়।