শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছি। এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন বিনিয়োগ ও সোর্সিংয়ের জন্য সর্বাধিক অনুকূল গন্তব্য হয়ে উঠেছে। দেশের বিনিয়োগবান্ধব নীতি, একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আমি দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকেও অনুরোধ করছি। আপনারা তাদের প্রযুক্তি-জ্ঞান আপনাদের শিল্প খাতে গ্রহণ করুন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণই আমাদের সাহসের উৎস। জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলার এখন মাথাপিছু আয়। ক্রয়ক্ষমতাও এ দেশের মানুষের বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের নিজস্ব বাজার তৈরি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু রপ্তানি করলেই চলবে না, নিজের দেশের ভেতরেও বাজার সৃষ্টি করতে হবে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কাপড়ের গুণগত মান বৃদ্ধি ও শ্রমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

দেশে যে বিপুল শ্রমশক্তি রয়েছে, তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও মেধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে জোর দেন তিনি।

‘মেইড ইন বাংলাদেশ উইক-২০২২’-এর লক্ষ্য হলো, দেশের পোশাক খাতের সক্ষমতা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত এই আয়োজন চলবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুটি কফি টেবিল বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন, যার ওপর বিজিএমইএ চলতি বছরের শুরু থেকে কাজ করছে।

পোশাক রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪ জন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে দেশের পোশাক খাতের অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়নবিষয়ক পৃথক দুটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।