তদন্ত প্রতিবেদনে ঠিকাদারকে দায়ী করার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যখন অ্যাকসিডেন্ট ঘটে, তখন কাজটা ৭৯ শতাংশ শেষ। দেশের সংকট, টাকাপয়সা, সব বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হলে আবার কয়েক বছর লেগে যাবে। যেহেতু ২০ শতাংশ কাজ বাকি, এরা এটা শেষ করুক। কিন্তু এদের বাংলাদেশে আর কোনো কাজ দেওয়া হবে না।’

গত ১৫ আগস্ট বিকেলে ঢাকার উত্তরায় ক্রেনে একটি গার্ডার তোলার সময় তা একটি কারের ওপর ধসে পড়লে এক পরিবারের পাঁচজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন গাড়িতে থাকা আরও দুজন। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না গ্যাজহুবা গ্রুপ করপোরেশনকে দায়ী করা হয়।

ঢাকার প্রবেশপথে যানজট নিরসনে কোনো উদ্যোগ আছে কি না, জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকের মিটিংয়ের ফোকাস ছিল গাজীপুর। দেশের আর কোনো জায়গায় এই সমস্যা নেই। আমি মিটিং করে বলেছি, যেকোনো মূল্যে গাজীপুর ঠিক করতে হবে। শুধু একটা প্রকল্প আমাদের গলার কাঁটা হয়েছে। এটা গাজীপুর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প।’

সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ সড়কের কর্মসূচি, এমনটা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের এটা খুব জরুরি হয়ে গেছে। আমরা যতই সাফল্য দেখাই না কেন, তারপরে যেসব প্রকল্প এখন অপ্রয়োজনীয়, ঢাউস পরিকল্পনা নেওয়ার ব্যাপারে আমি বারণ করেছি।’

রিজার্ভ নিয়ে সরকার খুব চিন্তিত জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের কিছু কিছু বিষয় আছে, আমরা খাদ্য নিয়ে কোনো বিপদে পড়ব, সেই সম্ভাবনা নেই। এরপরও আমরা আগাম চিন্তা করে রেখেছি। আমাদের এখানে অন্যান্য যে বিষয়, গ্যাসের ব্যাপারে, তেলের ব্যাপারেও আমরা বিভিন্ন বিষয়ে যারা আসে তাদের সঙ্গে কথা বলছি। ব্রুনেইয়ের সুলতানের কাছে পজিটিভ কিছু পাওয়া যেতে পারে। তেল ও গ্যাসের ব্যাপারে তাঁদের কাছেও প্রস্তাব আছে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘রিজার্ভ নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। পাকিস্তানে তো রিজার্ভই নেই, শ্রীলঙ্কাতে নেই, নেপালের অবস্থা খারাপ, চলছে না।’

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অদ্ভুত একটা সূচক দেখলাম, ক্ষুধা সূচকে আমরা সেভেন লসেজ ডাউন। কিন্তু ভারতের মতো দেশ সূচকে যেটা আছে, তারা কেবল আফগানিস্তানের ওপরে আর সবার নিচে। এখন সংকট তো চতুর্মুখী। তারপরও ভারতের রিজার্ভ অনেক বেশি। আমাদের রিজার্ভ যা আছে, এই রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ-ছয় মাস চলার সুযোগ আছে।’