রাজনীতিতে চিড়া-মুড়ির ঐতিহাসিক সেই ভূমিকা নতুন আদলে ফিরিয়ে আনলেন বিএনপির কর্মীরা। একই সঙ্গে দেশে রাজনীতির আবহও ফিরল। এবারের চাওয়া রাজনীতির সংস্কার—ভোটের অধিকার। সামনে হয়তো তার ফয়সালা হবে। না–ও হতে পারে। বিএনপি ‘সংস্কারের’ কোনো রোডম্যাপ দেয়নি। আবার কেউ কেউ বলছেন ‘খেলা’ হবে। সেটা ১৯৫৪ বা ১৯৭১ সালের মতো ভোটের খেলা কি না, স্পষ্ট হতে সময় লাগবে। গাইবান্ধা উপনির্বাচন দেখে সবাই সমস্যার গভীরতা বুঝেছেন।

কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো হঠাৎ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশিও বাংলাদেশের নাগরিকদের ভোটের অধিকার নিয়ে নিয়মিত বলছেন। সে রকম একজন পিটার হাস। ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭তম রাষ্ট্রদূত। মাঝেমধ্যেই হাসের ভাবনাচিন্তা, প্রত্যাশা বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পাচ্ছে।

বলা যায়, কয়েক মাসজুড়ে একদিকে চিড়া-মুড়ি সম্বল করে আগুয়ান বিএনপির কর্মীরা, অন্যদিকে পিটার হাস নজরকাড়া চরিত্র হয়ে উঠেছেন সংবাদকর্মীদের ব্যস্ততায়, গ্রামীণ চায়ের আড্ডায়, শহুরে হোয়াটসঅ্যাপের গোপন চ্যাটে। হাসের ভঙ্গিতে সাহস ও আকর্ষণ আছে। কিন্তু বাংলাদেশের সমস্যা নিশ্চয়ই বাংলাদেশিদের যৌথভাবে সমাধান করতে শিখতে হবে। কবে আর সেদিন আসবে?

বাংলাদেশ এখন কী করবে? কার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে? ব্যাপারটা ভাবাচ্ছে সবাইকে। চিড়া-মুড়ি নিয়ে আগুয়ানদেরও ভাবতে হচ্ছে এটা। যদিও তাঁদের সঙ্গে পিটার হাসের অন্তত একটা চাওয়ায় মিল দেখা যাচ্ছে। সেটা কাকতালীয় হতে পারে, না–ও পারে!

পিটার হাসের ফর্দ বড় নয়, তবে স্পর্শকাতর

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ নামের এক অনুষ্ঠানে হাস পরিষ্কার করেই জানিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর সরকার কী চাইছে। এখানে তাঁদের আপাতত চাওয়া পাঁচটি। ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে’ বাংলাদেশকে নিরাপত্তাবন্ধু হিসেবে পাওয়া; গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ ও সুশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন, সামাজিক ও পরিবেশগত বিপদ মোকাবিলায় সামর্থ্য বাড়ানো, শ্রম অধিকারের উন্নয়ন এবং নিরাপদে নিজ দেশে না ফেরা পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানসম্মত সুরক্ষা।

চাওয়ার ফর্দ বড় নয়। তবে যথেষ্ট স্পর্শকাতর উপাদান আছে তাতে। বিশেষ করে প্রথম চাওয়াতে। হাস ও যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ‘হুমকি’ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পাশে থাকুক। এ জন্য তারা দুটি সামরিক চুক্তিও করতে চায়, যা তাদের মতে ‘প্রয়োজন’। এসব প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য কিছুটা বিব্রতকর। কারণ, একই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আছে গণচীন। আছে ভারতও। এ রকম সবার স্বার্থ এক রকম নয়।

বাংলাদেশ এখন কী করবে? কার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে? ব্যাপারটা ভাবাচ্ছে সবাইকে। চিড়া-মুড়ি নিয়ে আগুয়ানদেরও ভাবতে হচ্ছে এটা। যদিও তাঁদের সঙ্গে পিটার হাসের অন্তত একটা চাওয়ায় মিল দেখা যাচ্ছে। সেটা কাকতালীয় হতে পারে, না–ও পারে!

যখন ‘নিরপেক্ষ’ থাকা কঠিন

প্রায় ১৫টি দেশের স্বার্থ আছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে। কিছুদিন আগেও এ এলাকা গুরুত্ব পেত মূলত বৈশ্বিক অর্থনীতির বড় ভরকেন্দ্র হিসেবে। এখন সেখানে একের পর এক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রবল ঢেউ এসে লাগছে।

সবার জানা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান শক্তি চীন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বলবান জাপান ও ভারত। আছে তাইওয়ান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াও। এরা সবাই বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতি। ভূরাজনীতিতেও সবাই এরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী।

বিশ্বজুড়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলেও তার ছাপ পড়তে শুরু করে। বলা যায়, অনুমানের চেয়েও দ্রুতগতিতে এখানে মেরুকরণ ঘটছে এবং ঘটানো হচ্ছে। এ রকম জটিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে বাংলাদেশ কীভাবে বিবদমান কোনো একক শক্তির ‘বন্ধু’ হতে পারে? বিষয়টা সহজ নয়। কিন্তু অবস্থা এমনও নেই, বাংলাদেশ পক্ষপাতহীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। ততটা আর সবল কই তার শরীর ও মনের জোর?

‘নিরপেক্ষতা’ একটা সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু তার জন্য অর্থনৈতিক হিম্মত থাকতে হয়। দু–তিন বছর আগেও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যতটা সবল বলে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, ততটা সে নয়; অন্তত এখন নেই। ইতিমধ্যে সেটা খোলাসা হয়েছে।

বাংলাদেশের রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ বিশ্ব জানে। সে শ্রীলঙ্কা হতে চায় না। তবে তাকে আইএমএফের কাছে যেতে হয়েছে। দুর্ভিক্ষ নিয়ে উদ্বেগের কথাও ঘোষিত আছে। শ্রমজীবীদের পাড়াগুলোতে কম খাওয়ার গল্প শোনা যায়। এ রকম টানাপোড়েনে ‘নিরপেক্ষ’ থাকা কঠিন—যদিও সেটাই ভালো হতো। নিরপেক্ষ থাকতে শক্তিশালী স্বরাজ লাগে। জাতীয় ঐকমত্য দরকার হয়। বাংলাদেশের সেসব নেই। ফলে তার মুরব্বি লাগবে এবং পিটার হাস বোধ হয় জানেন সমস্যাটা কোথায়।

নিজে থেকেই বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ওয়াশিংটন-ঢাকা বন্ধুত্ব হতে কোনো বাধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ব্যাপারটা অবশ্যই হাসের প্রত্যাশার চেয়ে জটিল। কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে গণচীনের সম্পর্ক এখন আর দুটি দেশের সাধারণ সৌজন্যের মতো নেই। ৪৭ বছরে এটা ক্রমাগত কাছে এসেছে। উভয়ের এখনকার বন্ধন বহুমাত্রিক এবং অনেক গভীর। চীনের শত শত কোম্পানি এ মুহূর্তে বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। কেবল পদ্মা সেতু নয়, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে অবকাঠামোগত যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে চীনের বিপুল সম্পৃক্তি আছে। সামরিক সমৃদ্ধিতেও তাদের হিস্যা আছে।

যুক্তরাষ্ট্র ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে যে দেশকে হীনম্মন্য করে রেখেছিল, চীন তাকে ধীরে ধীরে শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। একাত্তরে স্বীকৃতি দিতে দেরি করে ভুল করেছিল চীন। পরে সেটা পুষিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পক্ষে চীনের প্রতিপক্ষের সঙ্গে মাখামাখি কঠিন। আবার, সবকিছুর পর আছে তাইওয়ান প্রশ্ন। বাংলাদেশ তাইওয়ানের পৃথক স্বাধীন সত্তা স্বীকার করে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ তাইওয়ানকে সুরক্ষা দেওয়া।

তবে অর্থনৈতিক মন্দা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কেও মৃদু ছায়া ফেলছে। বৈদেশিক মুদ্রার টানাপোড়েন নিশ্চিতভাবে এখন বাংলাদেশকে নতুন করে বড় কোনো অবকাঠামোর জন্য ঋণী হতে নিরুৎসাহিত করবে। সে রকম অবকাঠামোর প্রস্তাব মনোযোগও পাবে কম। কিন্তু সেতু, টানেল, রাস্তা ইত্যাদি বানানো ছাড়া বাংলাদেশে চীনের অবদানের বিকল্প জায়গা আর কোথায়? চীন ‘পরাশক্তি’ হলেও বাংলাদেশে তার নৈতিক ও সাংস্কৃতিক আবেদন দুর্বল। ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র সে জায়গায় বেশ এগিয়ে।

সুতরাং বাংলাদেশকে কেবল চীনের সঙ্গে নয়, তিন সীমান্তের প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গেও ভারসাম্য রক্ষা করতে হয় এবং হবে। এভাবে সব মিলে, ছোট্ট দেশটিকে একালের তিন বড় শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার সংগ্রামে নামতে হচ্ছে। একই সঙ্গে একই সময় ত্রিমুখী বন্ধুত্ব সহজ নয়। অন্তত দুপক্ষকে অসন্তুষ্ট করার ঝুঁকি থাকে তাতে। ইতিহাসের পুরোনো বন্ধু ভারত নিশ্চয়ই সে রকম ‘ভিকটিম’ হতে চাইবে না। প্রায় সবকিছু পাওয়ার পরও বাংলাদেশে ভারতের কিছু চাওয়া থেকেই যায় এবং ক্রমাগত সেই তালিকা পাল্টায়।

আগে ভারতের চাহিদা ছিল বাংলাদেশ যেন তার ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোর’ নিরাপদ আবাস না হয়। সেই তালিকায় এখন যুক্ত হয়েছে উত্তর–পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশে বাংলাদেশ ভূখণ্ড ব্যবহারের স্পষ্ট চাওয়া। চীনের তৈরি অবকাঠামো তাদের লক্ষ্য অর্জনে ভালো কাজে দিয়েছে এবং আরও দেবে। চীনের ঋণে বাংলাদেশে সেতু বানানোর উৎসবে ভারতের সমস্যা নেই।

এককালের প্রায় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন আসাম-ত্রিপুরা সাবলীল ভঙ্গিতে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করতে পারার চেয়ে নয়াদিল্লির জন্য আর ভালো কী হতে পারে! কলকাতার সঙ্গে আগরতলার দূরত্বও বাংলাদেশ চাইলে অনেক ঘুচিয়ে দিতে পারে। এসবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু তারপরও পিটার হাসের সব চাওয়ায় সম্মতি দেওয়া দুরূহ।

বাংলাদেশ কোন দিকে হাত বাড়াবে?

বাড়ির পাশের মহাসাগরে অপর কারও বাড়তি আধিপত্য নয়াদিল্লির পছন্দ নয়। এই অপছন্দের কথা তারা লুকিয়ে রাখে না। ফলে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল’ নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি এক রকম নয়। একইভাবে শিলিগুড়ির বেশ কাছে রংপুরের তিস্তাপারে চীনের প্রকৌশলীদের আগমনেও ভারতের উৎসাহ থাকার কারণ নেই। পছন্দ-অপছন্দের এ রকম ত্রিমুখী টানাপোড়েনের তালিকা ছোট নয়। বাংলাদেশের নির্বাচন, রাজনীতি ও সুশাসন প্রশ্নেও ওই তিন শক্তির পছন্দ-অপছন্দে ব্যবধান থাকা অস্বাভাবিক নয়। কোনো ঋণগ্রহীতা দেশের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে বেইজিংয়ের অন্তত ভাবনা-দুর্ভাবনা নেই। ফলে চিড়া-মুড়ির রাজনীতি নিয়েও চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ও উৎসাহ এক রকম থাকবে না। ভোট কিংবা তার আগে-পরের ‘খেলা’ নিয়েও নয়।

এত সব পূর্বাপর বিবেচনার পরও মুরব্বি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভাবাচ্ছে সবাইকে। তার হাতে আছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাতিসংঘ এবং নানান মিশনের প্রভাব-প্রতিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ দেশগুলো মিলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বড় বাজার। বিশাল সংখ্যায় প্রবাসীরা আছেন এসব দেশে। যাঁদের আয়ে চলছে দেশে লাখ লাখ পরিবার।

বিপরীতে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা দেখাল ভারত ও চীন তাদের ‘বন্ধু’দের এককভাবে বাঁচাতে পারে না। নেপালিদেরও একই রকম দুঃখবোধ। অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়ে পাকিস্তানকেও আইএমএফে ছুটতে হলো এ বছর। কেবল বেইজিংয়ের ওপর ভরসা করে থাকতে পারল না। অথচ এ দুই দেশ পরস্পরকে ‘সব মৌসুমের কৌশলগত বন্ধু’ বলে।

এই তালিকায় যুক্ত করা যায় করোনাকালে বাংলাদেশের সেই দুঃস্বপ্নের কথাও। চুক্তির পরও তখন প্রত্যাশামতো করোনার টিকা আসছিল না বড় প্রতিবেশীর কাছ থেকে। অথচ প্রায় না চাইতেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ছয় কোটি ডোজ টিকা দিল এ পর্যন্ত, যা এবারের মহামারিতে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের টিকা-অনুদানের বড় অঙ্ক।

বিস্তর অপেক্ষা করে তিস্তার পানি না পাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতাও বড় ক্ষত হয়ে আছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সূচিতে। উভয় দেশের নেতাদের নিয়মিত আসা-যাওয়ার মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের একটা বৈঠক হতে বিস্ময়করভাবে ১২ বছর লাগল এবং তার মধ্যেই সিকিমে দুটো ড্যাম হতে থাকল! আবার পাঁচ বছর সময় নিয়েও রোহিঙ্গা প্রশ্নে চীন-ভারত প্রত্যাশিত সহায়তা করতে পারল না বাংলাদেশকে।

আদৌ তারা সহায়তা করতে চেয়েছে কি না, সে–ও বড় প্রশ্ন হিসেবে মাঠে আছে। পৌনে ৬ কোটি মানুষের মিয়ানমারের চেয়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ যদি চীন-ভারতের কাছে আজও বাড়তি গুরুত্ব না পায়, তাহলে ভবিষ্যতের ভরসায় থেকে কী হবে? বাণিজ্যঘাটতি কমাতেও কাজের কাজ কিছু করেনি এই দুই দেশ। এ রকম মানসিক দূরত্বের কারণেই বাংলাদেশের মেধাবী প্রজন্ম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা নিয়ে যতটা সাবলীল, বেইজিং বা দিল্লি ততটাই তাদের অগ্রাধিকারমূলক গন্তব্যস্থল নয় আজও। একই কারণে আমেরিকা-ইউরোপের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লে বাংলাদেশে প্রশাসনিক হাহাকার ওঠে। লবি করার জন্য সম্পদ জোগাড় করতে হয়।

চীন-ভারতের নিষেধাজ্ঞায় সে রকম কিছু ঘটত বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ রূঢ় এসব বাস্তবতা অগ্রাহ্য করবে কীভাবে? পিটার হাস হয়তো এ রকম দুর্বল গ্রন্থিগুলোতে বাজি ধরছেন।

আর এও সত্য—আর্থিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থায় নিরপেক্ষতা কোনো কাজের কৌশল নয়। সুইজারল্যান্ড যা পারবে, বাংলাদেশ তা পারবে না। সময়ও পাল্টাচ্ছে দ্রুত। সুইডেন-ফিনল্যান্ডের মতো দেশকেও নিরপেক্ষতা বিসর্জন দিতে হচ্ছে নতুন বিশ্ববাস্তবতার মুখে।

কিন্তু বাংলাদেশ কোন দিকে হাত বাড়াবে? উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমার একদিকে হেলে পড়ে টিকে আছে—এ মিথ্যা নয়। যদিও গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার অনেকখানি হারাল সেখানকার মানুষ। বাংলাদেশিরা কি ও রকম একঘরে বা আংশিক স্বাধীন হয়ে বাঁচতে রাজি হবে? সাইকেল চালিয়ে মানুষ যে আবারও রাজনীতি খুঁজছেন, সেটা কি তবে নতুন কোনো বাংলাদেশের বাসনা?

আলতাফপারভেজ: ইতিহাস বিষয়ে গবেষক