আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়
ছবি: প্রথম আলো

অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন করে সব ধর্মের নারীদের সম্পদ-সম্পত্তি, বিয়ে ও বিচ্ছেদ এবং সন্তানের অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তবে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে আইনটি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আয়োজনে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংগঠনটির আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সিডও সনদ কার্যকর হয়। বাংলাদেশ সরকার ১৯৮৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এটিতে স্বাক্ষর করে এবং অনুমোদন দেয়। শুরুতে সনদের চারটি ধারা নিয়ে সরকারের আপত্তি ছিল। পরে ২ ও ১৬ (১) (গ) ধারায় আপত্তি রেখে বাকি দুটি থেকে তুলে নেওয়া হয়। ২ ধারায় নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে আইনের সংস্কার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ১৬ (১) (গ) ধারায় বিয়ে ও পারিবারিক আইনে সম–অধিকারের কথা বলা হয়েছে।

‘অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন: নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সভায় জাতিসংঘ সিডও কমিটির প্রাক্তন সদস্য ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, অভিন্ন পারিবারিক আইন কার্যকরের মাধ্যমে সমাজে সমতা আনা প্রয়োজন। আইনটি কার্যকরের জন্য ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাঁদের বোঝাতে হবে ধর্মের সঙ্গে আইনটি সাংঘর্ষিক নয়। আইনটি করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। এর জন্য নারী সমাজকে আরও সোচ্চার ও তৎপর হতে হবে।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা বলেন, পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে রাজনীতির বড় প্রভাব রয়েছে। সমাজ এখন নারীর প্রতি আরও বৈষম্যমূলক হয়ে যাচ্ছে। এটা বিপজ্জনক।  

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, সিডও সনদ নারীর সর্বজনীন মানবাধিকার সনদ। ক্ষমতা আঁকড়ে থাকাই এখন সামাজিক দর্শন হয়ে গেছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাংঘর্ষিক সমাজ তৈরি করা হচ্ছে। সমাজে আগে নারীর প্রতি অবমূল্যায়ন ছিল। এখন নারীবিদ্বেষী সমাজের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সমতা প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন পারিবারিক আইন কার্যকর করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, সম্পদ-সম্পত্তিতে সমান অধিকার না দেওয়ার মাধ্যমে নারীর নাগরিক অধিকারকে অস্বীকার করা হচ্ছে। প্রচলিত পারিবারিক আইন এ দেশের সব নারী-পুরুষের কার্যকর সমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা। পরিবারে নারীর প্রতি অবমূল্যায়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটছে। তাই সমতা প্রতিষ্ঠায় অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক উপপরিষদ সম্পাদক দেবাহুতি চক্রবর্তী। সভায় আরও বক্তব্য দেন ওয়াইডব্লিউসিএ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হেলেন মনীষা সরকার, মহিলা ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি গীতা বিশ্বাস, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়নের সহসভাপতি রাখী ম্রং ও ভোরের কাগজ–এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সেবিকা দেবনাথ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আন্তর্জাতিক উপপরিষদ সদস্য লুনা নূর।