লস অ্যাঞ্জেলেস কনস্যুলেটের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন, ১৭ বছর পর আমন্ত্রণ পেল বিএনপি
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের উদ্যোগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ার হিলটন হোটেলে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমন্ত্রণ পেয়েছেন বিএনপির নেতারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার ৩০তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট আইনপ্রণেতা কংগ্রেসওম্যান লরা ফ্রিডম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু স্বাধীনতার প্রতীক নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও এক অনন্য উদাহরণ। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিরা দুই দেশকে সংযুক্ত রাখার গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অবদান প্রশংসনীয়। আগামী দিনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ট্রেজারারের দপ্তর, লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের মেয়রের দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহম্মদ জাবেদ ইকবাল তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। স্বাধীনতার তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিক আর্থসামাজিক অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রযাত্রা দেশের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের জনগণের কল্যাণে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ওপর জোর দিয়ে তিনি শান্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে কংগ্রেসওম্যান লরা ফ্রিডম্যান বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি কংগ্রেশনাল স্বীকৃতি সনদ কনসাল জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ট্রেজারার ও লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের মেয়রের দেওয়া আরও দুটি স্বীকৃতি সনদ তাঁদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কনসাল জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসব সনদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক অবদান ও অর্জনের প্রশংসা করা হয়।
সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক পর্বে মনোজ্ঞ পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ড. গোলাম হোসাইন, মোসলেম খান, খালিদ খুদা, রুবি সোলাইমান, শেখ মইনুদ্দিন, শামস তানভীর, শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ আল ফারুক, মুহাম্মদ মুশারুফ মোল্লা, ফিরোজ ফকরি, মেজর মাহবুব, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হান্নান প্রমুখ।
কনস্যুলেটের এ আয়োজনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর অংশ নেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী (শিপলু), সাধারণ সম্পাদক এম ওয়াহিদ রহমান, সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ নাসির জেবুল ও বদরুল আলম মাসুদ, সহসভাপতি আফজাল হোসাইন সিকদার ও চপল আনসারি, সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হোসেন এবং জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মুনিম আহমেদসহ অন্যরা।
ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত বলেন, ‘এই সংবর্ধনা আমাদের জাতীয় ইতিহাস ও স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধার এক প্রকাশ। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যখন একত্র হয়ে দেশের গৌরব স্মরণ করেন, তখন আমাদের সংস্কৃতির শক্তি ও ঐক্য আরও দৃঢ় হয়।’
বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ নাসির জেবুল বলেন, প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপি এবং দেশের বিভিন্ন কমিউনিটির লোকজন একসঙ্গে বাংলাদেশ কনস্যুলেট আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে অংশ নিয়েছেন। এমনটি অনেক দিন দেখা যায়নি।