আদালত অবমাননার দায়ে সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা

হাইকোর্ট ভবনফাইল ছবি

উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা সত্ত্বেও স্থাপনা উচ্ছেদ করার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার দায়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত অবমাননার অভিযোগে দুই বছর আগে করা এক আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। যাঁদের জরিমানা করা হয়েছে তাঁরা হলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন ও তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বহরমপুর মৌজায় অবস্থিত (দশমিক শূন্য ২৮০ একর) তর্কিত ভূমি মামলায় আলোচ্য বিষয়। সেখানে থাকা মিম ফার্মা অ্যান্ড মেডিকেল সার্ভিস, ওয়াসিক হল, সূচনা মেডিকেল হক, রায়হান হার্ডওয়্যার এবং স্টুডিও হেভেন—স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য ২০১০ সালের ৩০ মার্চ নোটিশ দেয় সিটি করপোরেশন। এই নোটিশের বৈধতা নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক সৈয়দ আলতাফ হোসেন ও ওবায়দুর রহমানসহ পাঁচ ব্যক্তি ওই সময় রিট করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১০ সালের ১১ এপ্রিল হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। তর্কিত ওই ভূমির (বোয়ালিয়া থানার বহরমপুর মৌজায় অবস্থিত) ক্ষেত্রে পক্ষগুলোকে তিন মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আদেশ দেন। একই বছরের ২২ জুলাই আদালত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থার মেয়াদ বর্ধিত করেন।

আবেদনকারীপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, স্থিতাবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিট আবেদনকারীর পাশাপাশি ভাড়াটেদের দোকান খালি করতে ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল নোটিশ দেন। স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকার পরও কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই ২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল রিট আবেদনকারীদের সম্পত্তি এবং দোকানগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।

এরপর আদালত অবমাননার অভিযোগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে আদালত অবমাননার আবেদন করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০২৪ সালের ২৬ জুন হাইকোর্ট রুল (আদালত অবমাননার) দেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় দেন।

আদালতে আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষে আইনজীবী জাফর সাদেক শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী।

পরে আইনজীবী জাফর সাদেক প্রথম আলোকে বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তৎকালীন সচিব, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। আদালত তৎকালীন সচিবকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে শাস্তি হিসেবে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়া সাপেক্ষে আপিল বিভাগে আবেদন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।