ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, নূর হোসেন শিবিরের সাথী ছিলেন। ২০০৯ সালের দিকে বেশ কয়েকবার ছাত্রলীগের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন।  

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এ সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে উপাচার্য দপ্তরে আসেন নূর হোসেন। দুপুরে শাখা ছাত্রলীদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম খালেদসহ সাবেক নেতারা ও ভার্সিটি এক্সপ্রেস উপপক্ষের নেতা-কর্মীরা এসে উপস্থিত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে কে নূর হোসেন, সেটি জানতে চান। এরপর নূর হোসেনকে চিহ্নিত করে উপাচার্যের দপ্তরেই তাঁকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর টেনেহিঁচড়ে উপাচার্য দপ্তর থেকে নিয়ে বের হতে চাইলে সেখানে হট্টগোল বাধে। তখনই পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও ভার্সিটি এক্সপ্রেস উপপক্ষের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ২০০৯ সালে নূর হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর শিবির হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মারুফসহ অনেকেই গুরুতর আহত হন। পায়ের রগ কাটা থেকে শুরু সবকিছু নূর হোসেনের নেতৃত্বে হয়েছে। তাই তাঁরা তাঁকে ক্যাম্পাসে প্রতিহত করেছেন। আর উপাচার্যকে জানিয়েছেন যেন তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদের জন্য সুপারিশ করা না হয়।  

শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি যখন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, তখন নূর হোসেন শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের চেতনার জায়গা থেকে নূর হোসেনের যেন চাকরি না হয়, এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জানাতে এসেছেন। তবে নূর হোসেনকে মারধর করেননি।  

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এস এ এম জিয়াউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সাক্ষাৎকার চলাকালে হট্টগোলের খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে যান। তারা নূর হোসেনকে ভেতরে নিয়ে আসেন। বেলা দুইটার দিকে তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে তাঁকে পুলিশ পাহারায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক পার হওয়ার পর আবার বাধা দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ নূর হোসেনকে ঘিরে রাখে।

পরে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দাবির মুখে নূর হোসেনকে অটো থেকে নামিয়ে পুলিশের ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ১ নম্বর গেট পর্যন্ত যাওয়ার পর তাঁকে পুলিশের ভ্যান থেকে নামিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।  

বিকেল পাঁচটার দিকে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে প্রক্টরের সঙ্গে যোগযোগ করতে বলেন। এরপর তাঁকে অন্তত ১০ বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।