কর্মশালায় বক্তারা বলেন, প্রতি তিনজন গর্ভবতীর মধ্যে একজনের বয়স ১৯ বছরের নিচে। এমন অবস্থায় বাল্যবিবাহের শিকার কিশোরীদের প্রথম সন্তান জন্মদান বিলম্বিতকরণের উদ্যোগ নেয় কেয়ার বাংলাদেশ। দেশে সবচেয়ে বাল্যবিবাহপ্রবণ কুড়িগ্রাম জেলায় ইমাজিন প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠা করা হয় ৬০টি ক্লাব। যেখানে বিবাহিত ও অবিবাহিত কিশোরীরা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সচেতনতা বিষয়ে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে বিভিন্ন আয়মূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এমনকি নিজের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, সেটি যেন আর কারও সঙ্গে না হয়, সে জন্য বাল্যবিবাহ রোধ করতে ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশে বিবাহিত কিশোরী মেয়েদের প্রথম সন্তান জন্মদান দেরিতে হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ক্ষমতায়নের জন্য প্রকল্পটি কাজ শুরু করেছিল। বিবাহিত কিশোরীদের অপরিণত বয়সে সন্তান জন্মদান কমিয়ে আনতে সারা দেশে ইমাজিন প্রকল্পের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

ইমাজিন প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার লাভলী ইয়াসমিন কর্মশালায় উপস্থাপনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর মো. শামসুল হক বলেন, বাল্যবিবাহ প্রকট আকার ধারণ করছে। এটি থেকে মুক্তি পেতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

করোনার টিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ করোনা মোকাবিলায় কতটা সফল, সেটি আর বলার প্রয়োজন নেই। দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ করোনার টিকা পেয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল এমনকি দুর্গম চরে বসবাস করা লোকজনও টিকা পেয়েছেন। অনেকে হিংসা করে বলেন, এখনো ২ শতাংশ বাকি রয়েছে। আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, ৯৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ থাকলে বাকি ২ শতাংশ মানুষও করোনা থেকে নিরাপদ থাকবে।’

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের পরিচালক মো. বেলাল হোসেন শেখ বলেন, ‘আমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র হচ্ছে কন্যাসন্তান হলে যত তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া যায়, ততই ভালো। শুধু কুড়িগ্রাম নয়, ইমাজিন প্রকল্পের মতো কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। এতে বাল্যবিবাহ অনেকটা কমে আসবে।’

কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন কেয়ার বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক নসব্যাচ।